পরীক্ষা দিয়ে স্বামীর বাড়ী ফেরা হলো না কমলগঞ্জে রেললাইনের উপর থেকে কলেজ ছাত্রী গৃহবধূর খন্ড-বিখন্ড লাশ উদ্ধার

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে স্বামীর বাড়ী ফেরা হলনা ৫ মাসের অন্তস্বত্তা কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ তান্নির। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গোপাল নগর রেল ক্রসিং এলাকা থেকে তাসরিকা বেগম ওরপে তান্নি (২৪) নামে এক শিক্ষার্থীর খন্ডবিখন্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ২৮ মার্চ রাত পৌনে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থী তান্নি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের আনোয়ারুল হকের মেয়ে ও কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের পতনঊষার গ্রামের রাসেল আহমদের স্ত্রী। সে মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। তবে নিহত তান্নির পিতার বাড়ির লোকজন বলেছেন তান্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়েছেন। এজন্য ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর আইনী ব্যবস্থার শরনাপন্ন হবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮মার্চ) রাতে গোপালনগর রেল ক্রসিংয়ের পাশে রেল লাইনের উপর এক নারীর খন্ডবিখন্ড মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকার সংবাদ পাওয়া যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে। এসআই আব্দুস শহীদ জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম তাসরিকা বেগম ওরপে তান্নি (২৪)। সে পতনউষার ইউনিয়নের রাসেল আহমদের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে। প্রায় আড়াই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার গ্রামের ঔষধ তোম্পানীতে কর্মরত রাসেল আহমদের সাথে। এসআই শহীদ আরও বলেন, মৃত দেহের কাছে পাওয়া কিছু আলামত থেকে ধারনা করা যায় ঘটনাটি রহস্যময়। এটি আত্মহত্যা না হত্যার পর কেউ রেলপথে রেখেছিল তা এখন খতিয়ে দেখতে হবে।
বৃহষ্পতিবার সকালে পতনঊষার গ্রামে রাসেল আহমদের বাড়িতে গিয়ে কোন পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। তবে তান্নির বসতঘরে বেশ কয়েকজন মহিলাকে ওই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। রাসেল আহমদ এর পরিবার সদস্যরা জানান, আমাদের তান্নি খুবই ভাল ছিল। কখনও তার সাথে ঝগড়াঝাটি হয়নি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে না এসে কেন কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের কাছে গিয়ে রেললাইনে পড়ে মারা গিয়েছে তা তাদের বোধগম্য নয়। বেলা সাড়ে ১১টায় এ প্রতিনিধি তান্নির পিতার বাড়ি কুলাউড়ার পাবই গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তান্নির পিতা বয়োবৃদ্ধ আনোয়ারু হক ও মা রাবেয়া বেগম অঝোর ধারায় কাঁদছেন। আলাপকালে তারা জানান, আমাদের মেয়ে তান্নি বর্তমানে ৫ মাসের অন্তস্বত্তা। তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। বিশেষ করে তান্নির দেবর হাই স্কুল শিক্ষক আলী মর্তুজা প্রায়ই তান্নিকে হুমকি দিত। তান্নির স্বামী রাসেল আহমদ ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তান্নির বড়ভাই আজিজুল হক তানিমকে তান্নি কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর এলাকায় রেললাইনের উপর দিয়ে হাটতেছে। তান্নির চাচাতো ভাই সিরাজুল হত বলেন, স্বামী, দেবর, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির সাথে তান্নির ঝগড়াঝাটি হত। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। হত্যার পর ট্রেনের নিচে পালিয়ে দেয় হত্যাকারীরা। তারা হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জোর দাবী জানান। এ ঘটনায় তান্নির পিতার বাড়ির লোকজনের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, এক নারীর দেহ, দুই পা এবং মাথা রেল লাইনের উপর পড়ে রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটিনাস্থলে গিয়ে তান্নির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এসময় রেল লাইনের পাশে তার ব্যবহৃত পরীক্ষার কাগজপত্র, বোরকা, পায়ের জুতা ও মোবাইল ফোনটি গুছালো অবস্থায় পড়ে রয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি হত্যাকান্ড বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গলস্থ রেলয়ে থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারনা করা হচ্ছে বুধবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কোন একটি ট্রেনে এ ঘটনাটি ঘটে।



মন্তব্য করুন