৮ দফা আদায়ের দাবিতে কমলগঞ্জের শমশেরনগরে চা শ্রমিক নারী পরিষদের মানবন্ধন ও সভা

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ প্লান্টেশন এলাকার কর্মক্ষেত্রে নারী চা শ্রমিকদের শৌচাগার, প্রক্ষালণ কক্ষ, বাগান থেকে মদ পাট্টা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা আদায়ের দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক নারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচী ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৮ এপ্রিল রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার শমশেরনগর বাজার চৌমুহনা চত্বরে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চা শ্রমিক নারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নারীনেত্রী মেরী রাল্প ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনি গোয়ালার নেতৃত্বে শতাধিক নারী চা শ্রমিক ব্যানার ও ৮ দফা সম্বলিত ফ্যাষ্টুনসহ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধন চলাকালে সভায় অন্যান্যের মাঝে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) সাধারনণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক ও ইউপি সদস্য সীতারাম বীন, নারীনেত্রী ইউপি সদস্যা নমিতা সিং, আশা ওড়নাল, মীরা রেলী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, চা শ্রমিক নারীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলা, খাদ এলাকা ও জঙ্গলে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করে। প্লান্টেশন এলাকায় নারী শ্রমিকদের নেই কোন শৌচাগার। তাই চা শ্রমিক নারী পরিষদ ৮ দফার দাবি আদায়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালনসহ সভা করে।
চা শ্রমিক নারী পরিষদের ৮ দফা দাবিগুলো হচ্ছে ১. প্রতিটি চা সেকশনে (প্লান্টেশন এলাকা) নারীদের জন্য শৌচাগার ও প্রক্ষালণ কক্ষ ও ওজন ঘর স্থাপন ২. নিরিকের (চা পাতা তোলার পরিমাণ) অতিরিক্ত উত্তোলিত চা পাতার জন্য দ্বিগুনহারে মজুরি প্রদান ৩. চা বাগানে মদের পাট্টা বন্ধ করা ৪. চা বাগান কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরুষের সমপরিমাণ নারী প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া, ৫.মজুররিসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস দেওয়া, ৬. নারী সর্দার ও নারী বাবু নিয়োগ দেওয়া, ৭. সরকারী চাকুরি ও উচ্চ শিক্ষায় চা বাগানের মেয়েদের কৌটা প্রদান, প্রতিটি চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ষাট ভাগ নারী নিয়োগ প্রদান ও ৮. চা শ্রমিকদের ভিটা উচ্ছেদ আইন বাতিল



মন্তব্য করুন