কমলগঞ্জে কিশোরীকে গণ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

July 30, 2018,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি গ্রামে তিন বখাটে যুবক কর্তৃক এক পিতৃহীন কিশোরীকে গণধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিশোরীকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নির্যাতিতা কিশোরীর মা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কমলগঞ্জ থানায় নির্যাতিতা কিশোরীর মা সায়েরা বিবির (৪৫) জানান, ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি গ্রামের রুশন মিয়ার ছেলে খালেদ মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটে তার কিশোরী মেয়েকে উত্যক্ত করত। মাঝে মাঝে কু-প্রস্তাবও দিত। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেও কোন লাভ হয়নি। কয়েকদিন পূর্বে অভিযোগকারীনির বড় মেয়ে আমিনা বেগমের (২৭) একটি সন্তান জন্ম লাভ করায় সাহায্যকারী হিসাবে তার কিশোরী মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন।

এ সুযোগে আমিনা বেগমের বাড়িতে একা পেয়ে বখাটে খালেদ মিয়া সঙ্গীয় উত্তর কানাইদাশী গ্রামের  সবর আলীর ছেলে শিপন মিয়া (২৩) ও রাজকান্দি গ্রামের মসুদ মিয়ার ছেলে রহিম মিয়াকে হানা দেয়। খালেদের নেতৃত্বে তিন বখাটে আমিনার বসত ঘরে প্রবেশ করে জোর পূর্বক কিশোরীকে ধরে নেয়। এতে বাঁধা দিলে মারধর করে বখাটেরা আমিনা বেগমকে আহত করে। বখাটেরা কিশোরীকে ধরে টেনে হিছড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকালে কিশোরীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তিন বখাটে পালিয়ে যায়। পরে রাতেই গ্রামবাসীরা গৃহবধূ আমিনা বেগম ও তার কিশোরী বোনকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সোমবার ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় নির্যাতিতা কিশোরীর মা সায়েরা বেগম বাদি হয়ে খালেদ মিয়া, শিপন মিয়া ও রহিম মিয়াকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্না সিনহা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আমিনা বেগম ও তার কিশোরী বোন এখানে ভর্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, দুই বোনের শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে প্রধান অভিযুক্ত আসামী খালেদ মিয়া মুঠোফোনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। অহেতুক তাকে দায়ী করা হচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান বলেন, আসলে এই মেয়েরা অসৎ চরিত্রের অধিকারী। তারাই এটি নাটক সাজাচ্ছে। অহেতুক তিন যুবককে দোষী করতে চাইছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামপুর ইউনিয়নের এক সদস্য অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খালেদ আসলেই খুবই দুষ্ট প্রকৃতির। সে তার সাথীদের নিয়ে রোববার রাতে আমিনা বেগমের বাড়িতে হানা দিয়ে তার কিশোরী বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক বলে চেয়ারম্যান উল্টো নির্যাতিতাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন তিনি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি  মোঃ মোকতাদির হোসেন পিপিএম বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com