বাদশার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা

August 9, 2019,

স্টাফ রিপোর্টর॥ কুলাউড়ার হাসামপুরে লন্ডন প্রবাসী আব্দুল খালেদ নুর ২২ টি বলদ ও ২০ টি ছাগল নিয়ে শুরু করেছেন গরু ও ছাগল মোটাতাজা করন খামার। উদ্দেশ্য আমিষের অভাব পূরন করে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান করা। তার খামার দেখে অন্যরাও আগ্রহী হচ্ছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটা তাজা করে বর্তমানে বাদশাহ নামে গরুটির দাম হাকা হচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা, যার ওজন ১টন। এখন পর্যন্ত এটিই জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ওজনের গরু বলে জানাগেছে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমেরিকান জাতের ব্রামা বাদশাহ্ নামের গরুরটির মূল্য হাকা হচ্ছে ১০ লাখ। খালেদ সখের বসে শুরু করেন প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গরুর বলদ ও ছাগল মোটাতাজা করন। তার খামারের বয়স ১০ মাস। এখানে ৪ থেকে ৬ জন লোক কাজ করে জিবীকা নির্বাহ করে।

খামারের দেখাশোনা করেন আতিকুর রহমান চৌধুরী তিনি জানান, ৩০ লক্ষ টাকার পুঁজি দিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারের ৭টি গরু বিক্রী করলে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যাবে, তাও খরচ বাদে। বাকিগুলো লাভেই থাকবে।

গরুর জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রামা, নেপালী, শাহীওয়াল, সিন্ধি ও দেশীয়। গরুর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগলও মোটাতাজা করছেন।

ছাগলের মধ্যে তোতাপুরি, যমুনাপারি, হরিয়ানা, বরবরি ও দেশীয় প্রজাতির ব্লাকঙ্গেল রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতাই এসেছেন গরুগুলো ও ছাগল দেখে দামাদামী করছেন। ফার্মের সর্বোচ্চ গরুটির নাম বাদশাহ রেখেছিল ছেলে তামির, যার মূল্য হাকা হচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা। ৫ লক্ষ পর্যন্ত দাম উঠেছে গরুটির। আর সেটার দাম হাকিয়েছেন ক্রেতা সাবেক শিক্ষক কামাল হোসেন।

খাদ্যের তালিকায় রয়েছে উন্নত জাতের ঘাস, খৈল, ভুট্রা, গম, চাউলের গুড়ো ও ভূষি।

এখানে কাজ করেন সফিক মিয়া, তিনি বলেন তিনিসহ আরও কয়েকজন এই খামারে কাজ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালই আছেন।

এলাকাবাসী আব্দুল মুহিত বলেন, খামারটি দেখার মত। এত অল্প সময়ে সকল জাতের রু ও ছাগল পালন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ঘাস, খৈল, ভূষি, ভাতের ফেন ইত্যাদি খাইয়েও যে পশু মোটাতাজা করা যায় এটি তার একটি উজ্জল দৃষ্ঠান্ত।

আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, গরুটির দাম চাচ্ছেন ১০ লক্ষ তবে ৮ লক্ষ হলে বিক্রী করে দিবেন।

স্থানীয় যুবক আশফাকুর রহমান জয়নাল বলেন, খালেদ মিয়ার খামার দেখে তিনি মুগ্ধ। তিনি বিদেশ যাবার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেই একটি খাবার করার চিন্তা করছেন।

সার্বক্ষনিক তদারকি করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ এর ভেটেরীনারী সার্জন ডাঃ গোলাম মোহাম্মদ মেহেদী। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন ক্যামিকেল ব্যবহার না করেও যে সফলভাবে গরু ও ছাগল মোটাতাজা করা যায় এটি তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন ফার্মে বাদশাহ্ নামে একটি বলদ রয়েছে, যার ওজন ১ টন হবে। তার জানামতে জেলায় এতবড় বলদ আর নেই।

আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাদশাহ্ নামের গরুটি ক্রয় করতে অনেক ক্রেতারাই ভিড় করছেন। তবে যে কেউ খামারে আসলে গরুটি দেখে পছন্দ হলে কিনে নিতে পারবেন।

প্রবাসী আব্দুল খালেদ নুর বলেন, প্রথমত সখ থেকে গরু মোটাতাজা করনের জন্য খামারটি গড়ে তুলেন। প্রথমে ৪/৫ টি গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন খামারে ২২ টি গরু ও ২০ টি ছাগল রয়েছে।

তার এই খামারের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুব সমাজকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূর করাও তার লক্ষ। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বিশালাকারে করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com