ঈদে পর্যটকের নতুন আকর্ষন ‘পালেরমোড়া’

সাইফুল্লাহ হাসান॥ এবারের ঈদে পর্যটকদের নতুন আকর্ষন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ‘পালেরমোড়া’ সেতু। সেতুটি শুধু সেতুই নয়, এটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয়স্থান।
চারদিকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির অথৈ জলরাশি। জলের ওপর ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ। সেই জলরাশির বুক ছিড়ে বেড়িয়ে এসেছে কুলাউড়া-ভুকশিমইল-বরমচাল আঞ্চলিক মহাসড়ক। তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে লাল-সাদারঙে আঁকা একটি সুদৃশ্য সেতু।
হাকালুকির অপরুপ সৌন্দর্য যেমন স্থানীয়, দেশ ও বিদেশীদের মন কাড়ে। তেমই সৌন্দর্য্যের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন সংযোজন ‘পালের মোড়া’ ব্রীজ। স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত সেলফি ব্রীজ হিসেবে। ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন হাকালুকির তীরবর্তী পালের মোড়া ব্রিজ এলাকা।
এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিদিনই পালের মোড়ায় একনজর ছুটে আসছেন ভ্রমণ পিপাসুরা।
উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের শেষ অংশ ও ভূকশিমইলের শুরু কুলাউড়া-ভূকশিমইল-বরমচাল সড়কের উপর পালেরমোড়া সেতুর অবস্থান। যাতায়াতের সবক্ষেত্রে রয়েছে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু অনেক সম্ভাবনার এই উপজেলায় পর্যটকদের আগমন ছিলো নামমাত্র। তবে, গত কয়েক বছর যাবত পাল্টে যাচ্ছে এখানকার দৃশ্যপট। তাই পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ কুলাউড়ার ‘পালেরমোড়া’।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের অথৈ জলরাশি ভেদ করে হামেশাই সেখানে যাতায়াত করছে ছোট-বড় নৌকা। কেউ মাছ ধরার কাজে, কেউবা আবার যাতায়াতের জন্য নৌকাগুলো ব্যবহার করছেন। আবার হাওরের বুক দিয়ে বের হওয়া সড়ক পথে চলছে শত শত ছোট-বড় গাড়ির বহর।
বর্ষায় ভূকশিমইলে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে এমন সব নয়নাভিরাম দৃশ্য। সংশি¬ষ্ট সড়ক সংস্কার ও বিভিন্ন কালভার্টের রঙ দেয়ার পর থেকে এই জায়গাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেছে। তাই ‘পালেরমোড়া’ এখন একটি দর্শনীয় স্থান।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার নানা বয়সী মানুষজন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এখানে বেড়াতে আসছেন। কুলাউড়া শহর থেকে ৮ কি.মি. পশ্চিম-উত্তর দিকে অবস্থিত ‘পালেরমোড়া’ সেতু। বর্ষায় ভরা পূর্ণিমার রাতে পালেরমোড়ায় গেলে ফিরে আসতে মন চাইবে না কারও। তাই বর্ষা শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
পালেরমোড়া ঘাটে দাঁড়িয়ে উত্তর, পূর্ব বা দক্ষিণে তাকালেই চোখে পড়বে সমুদ্রাকৃতির বিশাল হাওর হাকালুকির মনোরম দৃশ্য। চোখের দৃষ্টিসীমায় হাওরের সীমানা শেষ হবে না। অনেকের মতে, সমুদ্র সৈকতের চেয়ে ও কোন অংশে কম নয় ‘পালেরমোড়ার’ দৃশ্য।
যে কারো মন চাইলে ‘পালেরমোড়া’ থেকে ভাড়ায় চালিত নৌকা নিয়ে হাওরের মাঝখানেও যাওয়া যায়। কুলহীন হাওরের মাঝখানে গেলে দেখা যায় মাঝিদের মাছ ধরার দৃশ্য। ঢেউয়ের সঙ্গে পাল¬া দিয়ে দুলতে থাকে মাঝিদের ছোট ছোট নৌকা।



মন্তব্য করুন