বড়লেখার সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের আমেরিকায় ইন্তেকাল বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম (৭৮) আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার ভোরে আমেরিকার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি—রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ৪ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার ৫ এপ্রিল সকাল ৭টায় সিরাজুল ইসলামের ছেলে আনিসুল ইসলাম তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাবা দীর্ঘদিন থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থবোধ করে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহান মুক্তিযোদ্ধে মরহুম সিরাজুল ইসলামের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। তিনি ছিলেন একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক। তাঁর ছিল বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বৃহত্তর সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। অত্যন্ত স্বজ্জন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারক ও বাহক, তৃণমুলের সর্বস্থরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের অত্যন্ত আপনজন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্ট ইলেকশনে মৌলভীবাজার-৪(বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বড়লেখায় তিনি পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালে বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নানা কারণে রাজনীতিতে তিনি নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়েন। অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে ইউরোপ ও আমেরিকায় নিভৃতচারী জীবনযপন করছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে তিনি বড়লেখায় ঘুরে যান। এসময় বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযোদ্ধের গল্প শুনিয়েছেন।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী, বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ, পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্ঠা শরীফুল হক সাজু, বড়লেখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহিদ খান, লন্ডন ইউকে-বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ স¤পাদক মুনজের আহমদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।
বিবৃতি দাতারা বলেন, সিরাজুল ইসলামের মতো জনঘনিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিবদ বড়লেখা তথা সিলেটের মাটিত আর জন্ম নেবেন না। তিনি আক্ষিরক অর্থেই একজন হাকালুকি পারের মাটি ও মানুষের জননেতা ছিলন। তিনি তার সন্তানদের জন্য আর্থিক স¤পদ না রেখে গেলেও ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম বড়েলখার রাজনীতির একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর অসংখ্য রাজনৈতিক শিষ্য দেশে-বিদেশে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠত। ইতিহাস একিদন তাঁকে যথার্থ মূল্যায়ন করেব। বিনয়ী, বিচক্ষন, বাগ্মী এ নেতাকে বড়লেখার মানুষ বহুকাল ভুলবে না।



মন্তব্য করুন