বড়লেখায় চরম দুর্দিনে পরিবহন শ্রমিকরা : হদিস নেই শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের লাখ লাখ টাকার

April 8, 2020,

আব্দুর রব॥ করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব ঠেকাতে গণপরিবহনের চাকা বন্ধ দু’সপ্তাহ ধরে। সড়কে দাপিয়ে বেড়ানো বাস, সিএনজি চালিত আটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার ঠাঁই হয়েছে বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও গ্যারেজে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন  মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৬-৭ হাজার সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক। এদের মধ্যে অনেক শ্রমিক রয়েছেন যারা মাসিক বেতনভোগী নয়, ট্রিপ হিসাবে পারিশ্রমিক পেতেন। অল্প কিছু শ্রমিক রয়েছেন মাসিক বেতনে ড্রাইভিং করতেন। প্রত্যেক পরিবহন শ্রমিক তাদের সংগঠনের ফান্ডে (শ্রমিক কল্যাণ) প্রতিদিন চাঁদা দিতেন। লাখ লাখ টাকা ফান্ডে জমা থাকলেও দুর্দিনে শ্রমিক নেতাদের দেখা পাচ্ছে না বেকার হয়ে পড়া এসব শ্রমিকরা।

জানা গেছে, গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহনের সাথে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিমাসে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে চাঁদা আদায় করা শ্রমিক নেতাদেরও তারা পাশে পাচ্ছেনা। কখন এ অবস্থা স্বাভাবিক হবে, এ নিয়ে চরম অনিশ্চতায় তাদের দিন কাটছে।

উপজেলার বিছরাবাজার এলাকার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক হারুন মিয়া বলেন, ১১ দিন ধরে পরিবার নিয়ে খুবকষ্টে জীবনযাপন করছেন। যা সঞ্চয় ছিল তা সব শেষ। ঘরে খাবার নেই। প্রতিদিন আমাদের কল্যাণের নামে সমিতিতে চাঁদা দিতাম। কিন্তু এই দুঃসময়ে শ্রমিক নেতাদের কেউ খোঁজও নিচ্ছে না। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে বউ বাচ্চারা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

বড়লেখা পৌর এলাকার হাটবন্দ কলনীর সুমন আহমদ, রেল কলনীর কামাল হোসেন একই প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের অভিযোগ প্রতিদিন স্ট্যান্ডে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হত শ্রমিক কল্যাণের নামে। কিন্তু আজ ১২ দিন ধরে রিক্সা বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় স্ট্যান্ডের সভাপতি সম্পাদক কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছেনা। সরকারি কোন ত্রাণও পাননি।

তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিদাবাদকুরার সিএনজি চালক রিয়াজ উদ্দিন, দাসের বাজার লঘাটি গ্রামের ইদন, চুলার কুড়ি গ্রামের সুমন দাস বলেন, বড় অনিশ্চতার মধ্যে দিন কাটছে। একদিকে করোনা আতংক অন্যদিকে রোজিরোজগার নেই। চাল, ডাল নেয়ার মত টাকাও নেই, কেউ কোন খবর নিচ্ছে না। কল্যাণ তহবিলে আমাদের জমানো টাকা থেকে শ্রমিক নেতারা সহযেগিতা করলে সরকারের ত্রাণের মুখাপেক্ষি হওয়ার প্রয়োজন পড়তো না।

এব্যাপারে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সমিতির বড়েেলখা উপজেলা শাখার সম্পাদক  সেলিম উদ্দিন বলেন, এই দূঃসময়ে আমরা পাশে কাউকে পাচ্ছিনা। যারা বেশি দুরাবস্থায় আছেন আমরা তাদের লিষ্ট তৈরি করছি। দু’একদিনের মধ্যে আমাদের ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালকদের ত্রাণ দেয়াার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বড়লেখা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩২ টি সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে। শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। যাদের বেশির ভাগ প্রতদিনের গাড়ি চালিয়ে আয়ের উপরে নির্ভরশীল। ১২ দিন ধরে যানবাহন বন্ধ থাকায় অনেকেই খেয়ে, না খেয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা  করছেন দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com