মৌলভীবাজার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জেলার মূখ্য সংগঠকসহ ১২ জনের পদত্যাগ

সাইফুল ইসলাম : ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার মূখ্য সংগঠকসহ এপর্যন্ত ১২জন শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীয় শাখায় পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদত্যাগ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতির বরাবরে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তাঁরা।
শুক্রবার ২৮ নভেম্বর ছাত্র সংসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার মূখ্য সংগঠক মাসনুন আল আমীন তাঁর পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি গর্বের সাথে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের একজন মূখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সংগঠনের মূলনীতি-গণতন্ত্র, আদর্শ, সততা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি-এসব মূল্যবোধ ধারণ করেই আমি কাজ করে এসেছি।
কিন্তু দু:খজনকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করছি যে, মৌলভীবাজার জেলায় সংগঠনের কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক ও স্বার্থন্বেষী রাজনীতির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে যোগ্য ও নিবেদিত সদস্যরা সুযোগ পাচ্ছেন না। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, অপব্যবহার, আদর্শচ্যুতি এবং স্বচ্ছতার অভাব আমাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
গভীর পর্যালোচনা ও বিবেকের তাগিদে আমি উপলব্ধি করেছি-এ রকম পরিবেশে থেকে নীতি ও সততা রক্ষা করে কাজ করা আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।
অতএব, আমি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, মৌলভীবাজার জেলা এর মুখ্য সংগঠক পদসহ সকল দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ ঘোষণা করছি।
আমি আশা করি, আমার এই পদত্যাগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে দূরে সরে সংগঠনকে সঠিক নীতি ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। নেতৃত্ব মানে ক্ষমতায় থাকা নয়-মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মূল্যবোধ রক্ষা করা ও অন্যদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করা- এটাই প্রকৃত দায়িত্ব। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ আমার আবেগের স্থান, দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও এই সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা আমার সর্বদা থাকবেই, কিন্তু দলীয় কাঠামোতে যদি কখনও কোনো প্রকার আঘাত আসে তবে প্রয়োজনে আমরা আবারও সংগঠনের কর্মী হিসেবে ঘুরে দাঁড়াবো দলীয় কাঠামো রক্ষায় নি:স্বার্থভাবে, এই সংগঠনের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাল্লাহ।
মৌলভীবাজার জেলা শাখার মূখ্য সংগঠক মাসনুন আল আমীন বলেন, ‘ গত ২৪ নভেম্বর বুধবার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জেলা কমিটির ‘সংগঠক’ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠিয়েছি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কিছু ইস্যু আছে আর কমিটির কিছু সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেছি। আমরা এপর্যন্ত ১২জন কেন্দ্রীয় শাখায় পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। এর আগেও আরো বেশ কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক রায়হান খান গত ২৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো তাঁর পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত পেশাগত/শিক্ষাগত ব্যস্ততা অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনের কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষিতে, সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিরূপভাবে প্রভাবিত না হওয়ার স্বার্থে আমি আমার সদস্য পদ হতে অব্যাহতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরেক সংগঠক আব্দুস সালাম তালুকদার, জাকির আহমদ, শাকিব আহমদ, রিদওয়ান আহমেদ, আবু সুফিয়ান, জুনেদ আহমদ ও সদস্য আব্দুল মুক্তাদির সিয়াম, রুবেল মিয়া তন্ময়, ইয়াসির হামিদ সাব্বির, সালমান আহমেদসহ তাদের একই ভাষ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, এপর্যন্ত যারা পদত্যাগ করেছেন প্রত্যেকেই আহবায়কের ঔদ্ধত্য আচরণ, গ্রুপিং এবং আহবায়ককে স্যার হিসেবে সম্বোধন করতে হবে এমন আচরণে পদত্যাগ করেছেন তাঁরা। চলতি বছরের গত ২৯ জুলাই ফাহিম আহমদ জনিকে আহবায়ক ও জাবেদ রহমানকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব জাবেদ রহমান বলেন,“ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নাম পরিবর্তন করে ছাত্র শক্তি নামে কমিটি হয়েছে। যেসব জেলায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কমিটি রয়েছে, নতুন রিফর্ম করা হবে আর যেসব জেলায় কমিটি নাই সেসব জেলায় ছাত্র শক্তি নামে নতুন কমিটি গঠন হবে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নামে আর কোনো সংগঠন থাকছে না সেহেতু কেউ পদত্যাগ করলে পদত্যাগ পত্র গ্রহন যোগ্য হবে না । গত দেড় মাস আগে ৭জন পদত্যাগ করেছে, তাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় ছাত্র সংসদের কোনো কমিটি নাই। কেন্দ্রীয় কমিটিতে জাহিদ হাসান সভাপতি ও আবু বক্কর মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্র শক্তির কমিটি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছাত্র শক্তি নামে কমিটি হবে। এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজারে ছাত্র শক্তির কমিটি হয়নি। যারা পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন তাঁরা কোনো সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত নাই।”
পদত্যাগ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তাঁরা পদত্যাগ করছেন। আপনি দেখবেন সংগঠনের প্যাডে তাদের লেখা চেক করলে বুঝতে পারবেন সবার সেইম হুবুহুবু বাক্য লেখা আর যারা পদত্যাগ পত্রে পদত্যাগ করেছেন তাদের কোনো স্বাক্ষর নাই। জেলা কমিটির একজন সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির বরাবরে কোনো ভাবেই পদত্যাগ পত্র জমা দিতে পারে না। একটি মহল আমাদেরকে বিতর্কিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।”
কমিটির আহবায়ককে ফাহিম আহমদ জনিকে স্যার সম্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“ যারা বলেছে সম্পূর্ণ অযৌতুক, আমরা সবাই ভাই ভাই, এখানে স্যার বলার কি আছে।”
এব্যাপারে জানতে চাইলে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহবায়ক ফাহিম আহমদ জনি মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য করুন