শেখবাড়ি জামিয়ার মহাসম্মেলনে মানুষের ঢল, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কওমি মাদরাসা
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে দেশের শীর্ষ আলেমরা বলেন, ইসলামের আকিদা বিশ্বাসের অপরিহার্য অনেকগুলো বিষয় কাদিয়ানিরা অস্বীকার করে। বরং তারা তাদের মনগড়া মতবাদকে ইসলাম বলে চালিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজেই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানী অমুসলিম আইন পাশ করতে হবে।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেখবাড়ি জামিয়ার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে দেশের শীর্ষ আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা এসব কথা বলেন।
মহাসম্মেলন সভাপতিত্ব করেন বরুণার পীর ও আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী।
সম্মেলনে বয়ান ও নসিহত পেশ করেন আল্লামা হুসাইন আহমদ পালনপুরী (ভারত), আল্লামা মামুনুল হক, আল্লামা নুরুল ইসলাম খান, মাওলানা ওলীউর রহমান বর্ণভী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী, মাওলানা আহমদ আফজল বর্ণভী, মাওলানা সাদ আমিন বর্ণভী প্রমুখ।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এম নাসের রহমান, আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা আহমদ বিলাল প্রমুখ।
আদর্শ সমাজ গঠনে দেশের কওমি মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মন্তব্য করে দেশের শীর্ষ আলেমরা বলেন, কওমি মাদরাসা এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও নির্মূলে অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে। অথচ কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। দেশ, সমাজ ও মানবতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে কওমি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। বিগত সরকারের আমলে কওমি মাদরাসার তাকমিল তথা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দেয়া হলেও এখনো এর যথাযথ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের কোন সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। অবিলম্বে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।
শেখবাড়ি জামিয়ার মহাসম্মেলনে কোরআন ও হাদিসের বাণী শোনার জন্যে দূর-দূরান্ত থেকে শুক্রবার সকাল থেকে মাদরাসার বিশাল মাঠে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। বিকেল থেকেই শত শত গাড়ির বহরে যানজটে রূপ নেয় ভৈরবগঞ্জ বাজারের মহাসড়ক।
শুক্রবার রাতব্যাপী মাহফিলে ধারাবাহিক বয়ান, নসিহত, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জিকির আসকারসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগিতে শেখবাড়ি মাদরাসা ময়দান এক পবিত্র পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়।
মহাসম্মলনে শুক্রবার শেষ রাতে মোনাজাত পরিচালনা করেন বরুণার পীর ও আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শেখাবাড়ি মাদরাসার মুহতামিম শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী।
সম্মেলন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শেখবাড়ি মাদরাসার আল ফারুক ছাত্র সংসদ ও বাংলা সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরবি ও বাংলা দেয়ালিকা প্রকাশসহ চারু-কারুর মাধ্যমে পুরো মাদরাসা ক্যাম্পাসটি সুসজ্জিত করেন। তাদের এসব সৃজনশীল কার্যক্রম ও প্রকাশনী দেখে মাহফিলে আগত অতিথিসহ মুসল্লিরা বেশ মুগ্ধ হয়েছেন।
সম্মেলনের বিশাল মাঠে কয়েক হাজার মুসল্লির শৃঙ্খলার জন্য শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন তৎপর। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের সুশৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনা ছিল বেশ প্রশংসনীয়।



মন্তব্য করুন