শ্রীমঙ্গলে মাটি ফেটে উঠা ‘গায়বী মঙ্গলছন্দী’ মূর্তি ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা বিমল দেবের বাড়িতে ‘গায়বী মঙ্গলছন্দী দুই হাত’ নামে একটি দেবীমূর্তি উঠে এসেছে এমন দাবি ঘিরে এলাকায় বিশ্বাস, কৌতূহল ও বিতর্ক একসঙ্গে দানা বাঁধছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিমল দেবের শোয়ার ঘরের পাশের একটি কক্ষে মূর্তিটি নতুন কাপড় ও গয়না পড়িয়ে রাখা হয়েছে। বিমলের দাবি, মাটির নিচ থেকে স্বাভাবিকভাবেই মূর্তিটি উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে বিমল দেব জানান, তিনি পূর্ব পুরুষের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ছন্দী পূজা করে আসছেন। প্রতিবছর ভাদ্র মাসে বিশরী পূজা তিন দিন তিন রাতব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। গায়বী মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে ছন্দী মা আমাকে স্বপ্নে দেখা দিতেন। বলতেন, আমি তোমার ঘরে আসব, আমাকে পূজা দিলে তোমার ধন-সম্পদ বাড়বে। আমি তখন বলতাম আমার সন্তানরাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ, আমি আর কিছু চাই না।
তার ভাষ্যমতে, জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে তার আগের শোয়ার ঘরের মাটি ধীরে ধীরে ফুলে উঠতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। পরে অগ্রহায়ণ মাসের ১ তারিখ মঙ্গলবার সম্পূর্ণভাবে দেবীমূর্তিটি দৃশ্যমান হয়। তিনি বলেন, আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি স্বয়ং ছন্দী মা আমার ঘরে এসে হাজির হয়েছেন।
মূর্তি ওঠার আগেই মাটি ফাটতে শুরু করলে তিনি গ্রামের পুরোহিত দেবাশিষ ভট্টাচার্যকে বিষয়টি জানান। মাটি ফাটার প্রায় ১৫ দিন পর মূর্তির মাথা বের হলে আবারও পুরোহিতকে ডেকে আনা হয়। তখন মূর্তিটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস পর পুরো মূর্তিটি উঠে আসে।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের মানুষ বিমল দেবের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন। অনেকেই দেবীর উদ্দেশ্যে প্রণামী দিচ্ছেন। বিমল দেবের দাবি, ছন্দী দেবীর পূজা করলে তিনি নিজেকে সতেজ ও মানসিকভাবে প্রফুল্ল অনুভব করেন। তবে তিনি ছাড়া ওই ঘরে অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ।
পেশায় পানচাষি ও কৃষক বিমল দেব প্রতিদিন দুইবার দেবীর পূজা করেন। সকালে কৃষিকাজে যাওয়ার আগে এবং দুপুরে ফিরে পূজা দেন। সন্ধ্যায় তিনি জলপানি দিয়ে পূজা সম্পন্ন করেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
এ বিষয়ে পুরোহিত দেবাশিষ ভট্টাচার্য মুঠোফোনে দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, গায়বী মূর্তির কথা আমি শুনেছি। তারা আমাকে ডেকেছে পূজা করার জন্য, তাই আমি পূজা দিয়েছি। তবে এটি গায়বী কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তিনি আরও বলেন, সাধারণত গায়বী মূর্তিতে কাপড় বা গয়না থাকে না। এটি হাতে বানানো মূর্তি বলেই আমার ধারণা।
বিমল দেবের মেজো ভাই শ্যামল দেব বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে মূর্তিটি গায়বী এটা সত্য নয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এটি ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করার একটি ধান্দা। মাটি ফেটে নতুন কাপড়-চোপড়সহ মূর্তি ওঠার ঘটনা আমরা কখনো শুনিনি। এটি মাটি দিয়ে বানানো। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসে অন্ধ হয়ে এখানে ভিড় করছেন এবং হাজার হাজার টাকা প্রণামী দিচ্ছেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। কেউ একে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করছেন, আবার কেউ কেউ একে পরিকল্পিত প্রতারণা বলে দাবি করছেন। শ্রীমঙ্গলে গায়বী দাবিকৃত মূর্তি বিশ্বাস না গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সাথে পরিকল্পিত প্রতারণার কৌশল তদন্তের দাবী এলাকাবাসীর।



মন্তব্য করুন