ত্রিপুরাদের পৈতৃক ভূমিতে হা/ম/লা ও দখল চেষ্টার অভিযোগ

January 24, 2026,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া গ্রামের আদিবাসী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পৈতৃক ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ভূমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বাড়িঘর ভাঙচুর, সীমানা পিলার অপসারণ এবং জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

২৪ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদশন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। তার আগে ২১ জানুয়ারি বুধবার অভিযোগকারী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বালিশিরা মৌজার দাগ নং ৫১৭, জেএল নং ৭১, ব্লক নং ৩, খতিয়ান নং ৩২৬ ও ৪০১-এর অন্তর্ভুক্ত ভূমিতে যুগ যুগ ধরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং (বুধবার) সকাল আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে রুহিন মিয়া (পিতা- ছফেদ মিয়া) ও ছফেদ মিয়া (পিতা- মৃত ধনাই মিয়া), উভয়ই শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ছফেদ মিয়া রোড, শ্যামলী আবাসিক, এলাকার বাসিন্দা—সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন সিএনজি ও পিকআপ গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের সদ্য নির্মিত একটি টুরিস্ট শপ ভাঙচুর করে এবং নির্মাণসামগ্রী গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ভূমির সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে নিয়ে যায়। এ সময় দোকান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডলুছড়া গ্রামের প্রবেশ পথে অবস্থিত তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন জুমার নামাজের আগে মো.মোক্তার মিয়াকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলে তার ছেলে মোঃ সিহাব মিয়া বিকেল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি পরিবারকে জানান।

ভুক্তভোগী ত্রিপুরারা অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধানে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তারা সরেজমিন তদন্ত, অবৈধভাবে অপসারিত সীমানা পিলার পুনঃস্থাপন, ভাঙচুরকৃত ঘর ও দোকানের মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের ভূমি, বসতভিটা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকি না আসে, সে জন্য কার্যকর প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে ইন্দ্র মোহন দেববর্মা এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচাজ শেখ মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আমি অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com