কমলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৎ ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলায় বসত ঘর তছনছ ও লুটপাটের অভিযোগ

July 12, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জের ধর সৎ ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলায় একটি বসত ঘর ভাঙ্গচুর করে তছনছসহ লুটপাটের অভিযোগ  পাওয়া গেছে। রহিমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের মৃত কুদ্দুছ মিয়ার বাড়িতে মঙ্গলবার ১১ জুলাই বেলা দুইটায় এ ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার রাতেই কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
কমলগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রহিমপুর ইউপির কাঁঠালতলী গ্রামের মৃত কুদ্দুছ দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্তানদের সাথে প্রথম পক্ষের ছেলে মো: নজরুল ইসলামের পারিবারিক বিরোধ চলছিল বেশ কিছু দিন ধরে। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বেলা দুইটায় সৎ ভাই নজরুল ইসলাম (৩০), চাচাতো ভাই আলাউর রহমান ওরফে আলাল মোল্লা (৪৫), ইয়াকুব আলী (৩৫) ও মোছা; আলেয়া বেগমের (২৫) নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক অতর্কিতে এসে হামলা চালিয়ে বাঁশের বেড়ার টিন শেড বসতঘর ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। হামলাকারীরা আবার এ বাড়ির গৃহনী মোছা: সোনারা বেগমকে (৫৫) মারধর করে আহত করে। হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙ্গচুরের সাথে সাথেও নগদ অর্থসহ স্বর্ণালঙ্কারস বেশ কিছু মালামাল লুটে নেয়। হামলাকারীরা কিছুটা প্রভাবশালী বলেও আক্রান্তরা সাহায্যের জন্য হাল্লা চিৎকার করলেও গ্রামের কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

মঙ্গলবার রাতে আক্রান্ত পরিবারের ছেলে সালমান আহমদ বাদী হয়ে হামলার নেতৃত্বদানকারী সৎ ভাই মো: নজরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আলাউর রহমান, ইয়াকুব আরী ও মোছা: আলেয়া বেগমের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী সালমান আহমদ পারিবারিক বিরোধের জের সম্পর্কে বলেন, তাদের বাবা মারা যাবার পর থেকে সৎ ভাই নজরুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই আলাউর রহমান ওরফে আলাল মোল্লা নানাভাবে তাদের নির্যাতন করছিল। বছর খানেক আগে সৎ ভাই নজরুল ইসলাম আলাল মোল্লা মিলে অনেকটা জোর পূর্ব তার ছোট বোন লুবনা বেগমকে (১৫) এক বখাটে ছেলের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে বখাটে ছেলে লুবনাকে নানাভাবে নির্যাতন চালায়। এ জন্য বোনটি বাবার বাড়িতে আসার পর ফিরে যায়নি। তাদের মা বাধ্য হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। এখন নজরুল ইসলাম ও আলাল মোল্লা বিবাহ বিচ্ছেদে তাদের সম্মানহানি হয়েছে বলে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরেই মঙ্গলবার এ হামলা ঘটে।
তবে অভিযোগ সম্পর্কে ১নং আসামী মো: নজরুল ইসলাম বলেন, সামান্য একটি পারিবারিক ঝগড়া হয়েছে। এটি নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। বসত ঘর ভাঙ্গচুর ও লুটপাট সম্পর্কে তিনি কোন কথা না বলে ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে জানান।
কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) লিখিত অভিযোগ গ্রহন ও প্রাথমিক তদন্তে বসতঘর ভাঙ্গচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল সামাজিক সমাধান করে দিবেন বলে তিনি জানান। সামাজিক সমাধানে শেষ না হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও ওসি (তদন্ত) জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com