কমলগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুুদল হক একজন শিক্ষা দরদী মানুষ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ একজন মানুষ মহৎ হয়ে ওঠেন তার কর্মগুণে। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা তাদের কর্ম, ধ্যান-জ্ঞান, অর্জন সবকিছু উৎসর্গ করেন দেশের স্বার্থে, মানুষের কল্যাণে। নিঃস্বার্থভাবে করেন মানুষের উপকার, দেশের কল্যাণ। তারা কর্তব্য কাজে ফাঁকি না দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এমনই একজন হলেন কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সম্প্রতি তিনি জেলার শ্রেষ্ট ইউএনও হিসাবে পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি শুধু মাত্র সরকারী দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি কমলগঞ্জের সামাজিক মূল্যবোধ,বাল্য বিবাহ, শিক্ষা, অর্থনৈতিকসহ নানা কাজে মনোযোগী হন। বিশেষ করে তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করেন। তিনি হাতে নেন প্রয়াস কমলগঞ্জ নামে একটি প্রকল্প। যার ফলশ্রুতিতে তিনি কমলগঞ্জবাসীর কাছে একজন শিক্ষা দরদী ও কাজ পাগল মানুষ হিসাবে পরিচিত পেয়েছেন।
কমলগঞ্জে এ পর্যন্ত যারা ইউএনও হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন তারা কেউ কেউ নিজের কর্মপরিধির ভেতর সীমাবদ্ধ ছিলেন আবার এর বাইরে কেউ কেউ ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করেছেন। সেগুলো ছিল ক্ষনস্থায়ী এবং সময়ের আলোচিত বিষয়। আমার যতদূর মনে পড়ে ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া নকলমুক্ত করতে অবদান রেখে গেছেন। তার প্রচেষ্টা সফল ছিল। ত্রিশাল নকলের কলংকমুক্ত হয়েছিল। আরেক ইউএনও প্রকাশ কান্তি চৌধুরী খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, স্যানেটশন ও গরীব মানুষকে সহযোগীতায় করায় সুনাম অর্জন করেন। এ ছাড়াও আরেক ইউএনও সফিকুল ইসলাম মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও স্বচ্ছ পৌর নিবার্চন করে দেখিয়েছেন প্রশাসন চাইলে শত বাঁধার মধ্যেও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আর বর্তমান ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক কমলগঞ্জের প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার মানোন্নয়ন করে বুঝিয়েছেন প্রশাসন চাইলে অন্যরকম পরিবর্তনও সম্ভব। বিগত সময়ে যখন জেলার মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার হাল নাজুক অবস্থায়,তখন আলোকবর্তিকা হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ কমলগঞ্জে যোগদান করেন মোহাম্মদ মাহমুুদল হক । এই কর্মবীর শৈল্পিক মানুষটি কমলগঞ্জে যোগদান করেই শিক্ষাকে সর্বজনীন, গুণগত ও মানসম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর কাজ শুরু করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন- প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুর মেধা বিকাশের বুনিয়াদ গঠন হয়। তাই তিনি প্রয়াস নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রথম প্রধান শিক্ষকসহ সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন। মনিটরিং সেল গঠন করেন বিভিন্ন অফিসারদের সম্মন্বয়নে। সেখানে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদের নাম ঠিকানা ও মোবাইল ফোন সংগ্রহ করা হয়। পাশাপশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোর শিক্ষার মান ও সমস্যা চিহ্নিত করতে থাকেন। তাই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কখনো পায়ে হেটে, কখন গাড়িতে করে তিনি ছুটে চলেন গ্রাম্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। যেখানে আগে কখনো কোনো ইউএনওর পায়ের চিহ্ন পড়েনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও ঝরেপড়া রোধকল্পে বিদ্যালয় পরিদর্শন, অভিভাবক সমাবেশ, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মিড ডে মিল উপকরণ (টিফিন বক্স) বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ (কলম, খাতা, জ্যামিতি বক্স) ও পোশাক বিতরণ, জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থার জন্য পানির ফিল্টার বিতরণ, শ্রেণিকক্ষ এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখাসহ বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে ফুলবাগান করা, শ্রেণিকক্ষে ঝুড়ি স্থাপন, পরিচ্ছন্ন দল গঠন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহসহ নানাবিধ প্রশংসনীয় ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে করে বিগত দুইটি পিএসসি ও এইচএসসিতে ফলাফলের দিক দিয়ে জেলার মধ্যে শত ভাগ সাফল্য দেখায় কমলগঞ্জ উপজেলা। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ হতে ১২টি স্কুলের দুরবর্তী ছাত্রীদের মধ্যে ৮০টি বাইসাইকেল বিরতণ করেন। নানা মুখী পদক্ষেপের কারনে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়মুখী হয়েছে। এতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরেপড়াও রোধ হয়েছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক এবং এলাকার গণ্যমান্য সচেতনব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শুধু শিক্ষা নয় তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের যারা আর্থিক কারনে স্কুল বা কলেজে ভর্তি হতে পারে না তাদের জন্য একটি শিক্ষা কল্যান ট্রাষ্ট গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন। শীঘ্রই আনুষ্টানিক ভাবে শিক্ষা কল্যান ট্রাষ্টের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। মাধ্যমিক স্কুল এর বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদেও কর্মশালারও আয়োজন করেন। শিক্ষার উন্নতির পাশাপাশি বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেন। ২০১৬ সালে এক যোগে ৭ আগষ্ট উপজেলার ৯০টি ওয়ার্ডে বাল্য বিবাহ মুক্ত করতে শপথ পাঠ করানো হয়। এর পর হতে বিয়ের কাজী থেকে শুরু করে বর কনের কেউই এখন আর রাজী হয় না বাল্য বিবাহে। আতংক আর সচেতনতা যাই হোক বাল্য বিবাহ বন্ধের প্রায় শতভাগ সাফল্য তারই। সদালাপী ও বিনয়ী ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মানুষের পারিবারিক, সামাজিক থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যে তিনি করে দেন নাই। নিরবে কয়েকটি পরিবারকে সুখের সন্ধান দিয়েছেন।
ক্সা অবস্থা শিক। বাংলাদেশে যদি তার মতো আরো ১০০ জন এরকম নিবেদিতপ্রাণ, দেশপ্রেমিক, সৎ, কর্মবীর মাহমুদুল হক থাকত তাহলে উন্নত জাতি গঠনের মূলভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্রটা পাল্টে যেত এ দেশে। সুহাসিনী, চিরনবীন এই মানুষটি মন ও মননে সব সময় একজন সুচিন্তার মানুষ। তিনি সকল কাজের পাশাপাশি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও সকলের কাছে পরিচিত।



মন্তব্য করুন