আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ॥ অভিযুক্ত দুই ছাত্র বহিষ্কার

October 8, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করলেও ঘটনার এক সপ্তাহেও থানায় কোন মামলা হয়নি। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি আপোষ মীমাংসার করার নামে ধামাচামা দেওয়ার চেষ্টায় এলাকার ছাত্র ও সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ধর্ষিতা শিক্ষার্থী এখন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতনঊষার ইউনিয়নের নন্দগ্রাম এলাকার আনছার মিয়ার মেয়ে আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী (লুবনা আক্তার)
সোমবার ক্লাস টাইমের কিছু আগে সকাল ৯টার দিকে মাদ্রাসায় আসে। এ সময় মাদ্রাসায় কোন-ছাত্র শিক্ষক না থাকায় ওই ছাত্রীটিকে একা পেয়ে একই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী দর্গাহপুর গ্রামের আতিফ চৌধুরী, আবিদ আলী ও বহিরাগত ছাত্র কোনাগাঁও গ্রামের মুহিবুর রহমান- এই তিনজন মিলে মুখ বেঁধে মাদ্রাসার নতুন ভবনের বাথর”মে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা আসা শুর” করলে ধর্ষক নরপশুরা পালিয়ে যায়। ধর্ষণের পর শিক্ষার্থীকে গলা টিপে হত্যারও চেষ্টা করে বলে ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন।
এ ব্যাপারে আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী মাও: আলম চৌধুরী ৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই মাদ্রাসার দুই ছাত্র আতিফ ও আবিদকে ঘটনার দিনই ¯’ায়ীভাবে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মত ঘটনায় কেন আইনগত ব্যব¯’া নি”েছন না এই প্রশ্নে সুপার বলেন, আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের বিষয়ে রেজুলেশন কপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে রোববার ডাকযোগে প্রেরণ করেছি। আমরা এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি টাকার বিনিময়ে আপোষ মীমাংসার কথা বলে একটি প্রভাবশালী মহল প্ররোচনা দিয়ে থানা বা আদালতে মামলা দায়ের করতে দি”েছ না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে থর্ষণের ঘটনা নিয়ে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার জড় বইছে। ঘটনার এক সপ্তাহে কেন আইনগত ব্যব¯’া নেয়া হয়নি এ প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের। পতনঊষার ইউনিয়নের ছাত্র ও যুব সমাজ এই নাক্কারজনক ঘটনায় দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু বলেন, মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের খবর পেয়েছি। ভিকটিমের পরিবারকে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। নাক্কারজনক এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তিনি।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. বদর”ল হাসান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। আমি ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। পাশাপাশি মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষাসহ থানায় মামলা দেয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com