প্রশাসনের নাকের ডগায় কমলগঞ্জে হাতুড়ে চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে উপজেলাবাসী

February 28, 2018,

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় হাতুড়ে ডাক্তারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। উপজেলার সদর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক হাতুড়ে ডাক্তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। এসব ডাক্তার রোগীকে দেখেই কোনো পরীক্ষা ছাড়া বলে দিতে পারেন রোগের নাম। ফার্মেসীতে বসে কোনো ডাক্তারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই রোগী দেখছেন নামধারী এসব ডাক্তাররা।
এছাড়া সরকারীভাবে নিয়োগকৃত আরএমপি পদধারী চিকিৎসকরাও ফার্মেসীতে বসে দেখছেন রোগী। তারাও নামের পূর্বে ডাঃ পদবী ব্যবহার করে এবং রীতিমত চেম্বার খোলে বসেছেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে সময় দেয়ার চেয়ে চেম্বারে সময় দিতে তাদের ব্যস্ত দেখা যায়। রোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার না পেয়ে চুটে আসছেন তাদেরই সেই চেম্বারে। এইসব চিকিৎসকরা পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, অর্শ, আমাশয়, পাইলস, মহিলাদের নানা রকমের জটিল রোগসহ যৌন রোগের ঔষুধ পর্যন্তও দিতে সক্ষম। এসব হাতুড়ে চিকিৎসকদের অপ-চিকিৎসায় ও অনিয়ন্ত্রিত এন্ট্রিবায়োটিক ঔষধের ব্যবহারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।
তারা কার্ড ও প্যাডে নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দটি বসিয়েছেন। আবার কেউ লিখেছেন ‘অভিজ্ঞ’, কেউ লিখেছেন বিশেষজ্ঞ। সাথে সাথে লাগিয়েছেন নানা ডিগ্রি। এরপরও তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় চালিয়ে যাচ্ছেন ভুয়া চিকিৎসা।
মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট আইন ২০১০ অনুযায়ী এমবিবিএস/ডেন্টাল পাশ করে বিএমডিসির অনুমতি নিয়ে নামের সামনে ডাক্তার লেখা যাবে। বিএমডিসির অনুমতি না নিয়ে এমবিবিএস/ডেন্টাল পাশ করেও নামের সামনে ডাক্তার লেখার কোনো বিধান নেই। কিন্তু কমলগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক হাতুড়ে ডাক্তার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নামের সামনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার লিখে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের এই রমরমা বাণিজ্য। বিশেষ করে তাদের এই বাণিজ্যের স্বীকার হচ্ছেন এলাকার সহজ সরল মানুষ।
সরেজমিন গেলে দেখা যায়, কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডিএমএফ লক্ষ্মণ চক্রবর্ত্তী কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারস্থ অগ্রণী ব্যাংকের নিচে রীতিমত সহকারী রেখে বিশাল আকারে চেম্বার খোলে চিকিৎসা করছেন। কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডিএমএফ সজল চন্দ্র দাস ভানুগাছ বাজারে নিজস্ব চেম্বার দিয়ে ও আরও দুটি ফার্মেসীতে বসে চেম্বার করছেন। এছাড়াও ওই সরকারী হাসপাতালের ডিএমএফরা প্রতিযোগিতা করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে এম এ সালাম (ডিএমএ) ডিপ্লোমা-ইন মেডিকেল এসিষ্টেন্ট, ঢাকা সহ মা ও শিশু রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষণ ব্যবহার করে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনীতে চেম্বার করছেন। ফার্মাসিষ্ট হয়ে নামের সাথে ডাঃ ও মেডিসিন অভিজ্ঞ সহ মা ও শিশু, চর্ম ও যৌন রোগে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত লেখে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারের মেডিসিন কর্ণারে চেম্বার করছেন পরিতোষ শর্মা। ফয়সল আহমদ প্যারামেডিকেল (আরএমপি) ঢাকা প্যাড ব্যবহার করে কমলগঞ্জের ভানুগাছ চৌমুহনীতে চেম্বার করছেন। এস এন শর্মা শমসেরনগরে। এক সময়ের ফার্মেসী কর্মী দেলোয়ার হোসেন ভানুগাছ বাজারে ডিএম মেডিসিন ঢাকা প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের ফেস্কীপশন দিচ্ছেন।
এতে করে সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হয়ে সর্বশান্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন উপজেলাবাসী। উপজেলার সাধাারণ মানুষ মুখ খোলে কিছু বলতে ও তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও যেতে পারছেন না।
এবিষয়ে দেবাশীষ পাল নামের পূর্বে ডাক্তার লেখার কথা স্বীকার করে বলেন, “দাদা এগুলো পত্রিকায় লিখেয়েন না, আমি এগুলো ছেড়ে দিয়েছি“। কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডিএমএফ লক্ষ্মণ চক্রবর্ত্তী ও সজল চন্দ্র দাস বলেন, নামের পূর্বে ডাক্তার লেখা না লেখার বিষয়ে আদালতে মামলা চলতেছে। প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ফয়ছল আহমদ নামের পূর্বে ডাক্তার লেখার কথা স্বীকার করে বলেন, গত ৮/১০ দিন থেকে আমি আর নামের সামনে ডাক্তার লিখছি না।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com