বিবাহে উপঢৌকনের সংস্কৃতি-পরিবর্তন সময়ের দাবী

বশির আহমদ : বর্তমান সমাজে বিবাহ অনুষ্ঠান যেন এক প্রকার আর্থিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। আনন্দ ও সৌহার্দ্যের এ সুন্দর আয়োজন এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠছে মানসিক ও আর্থিক চাপের কারণ। কারণ, প্রায় প্রতিটি বিবাহে এখন “উপঢৌকন” বা “গিফট” যেন বাধ্যতামূলক অংশে পরিণত হয়েছে।
দাওয়াত পেলেই মানুষের মনে প্রথম প্রশ্ন জাগে, কত টাকার উপঢৌকন দিতে হবে? অনেকে অর্থাভাবের কারণে বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন না, আবার কেউ সামাজিক লজ্জা বা সম্পর্ক রক্ষার জন্য ঋণ করে হলেও উপস্থিত হন। পরিচিত বা সামাজিক অবস্থানসম্পন্ন ব্যক্তিদের তো প্রায়ই বিভিন্ন বিবাহ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পড়ে, ফলে প্রতিবার উপঢৌকন দেওয়ার চাপ আরও বেড়ে যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন অনেক জায়গায় দেখা যায়, বিবাহ অনুষ্ঠানে টাকা বা গিফটের হিসাব রাখার জন্য আলাদা খাতা-কলম রাখা হয়। যেন উপঢৌকন দেওয়ার বিষয়টি এক প্রকার সামাজিক বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি কখনও কখনও দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যই হয়ে যায় কিছু টাকা বা উপহার পাওয়ার আশায়!
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন, এই সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। বিবাহ অনুষ্ঠান আনন্দ ও মিলনের প্রতীক, এটি যেন আর্থিক বোঝায় পরিণত না হয়। নিকটাত্মীয় বা প্রিয়জন যদি আন্তরিকভাবে কিছু উপহার দিতে চান, তা ব্যক্তিগতভাবে বা ইচ্ছা থেকে দিতে পারেন, কিন্তু সামাজিক রীতিতে তা বাধ্যতামূলক হওয়া অনুচিত।
দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তাধারারও পরিবর্তন আসা উচিত। বিয়েতে টাকা বা গিফট নেওয়ার এই প্রচলিত প্রথা বিলুপ্ত হওয়া সময়ের দাবি। এবিষয়ে সামাজিক আলোচনা ও সচেতনতা তৈরি হলে আশা করা যায়, শিগগিরই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, আর বিবাহ অনুষ্ঠান ফিরে পাবে তার প্রকৃত সৌন্দর্য, আন্তরিকতা ও আনন্দ।
লেখক, বশির আহমদ, সভাপতি, ইসলামি সমাজ কল্যাণ পরিষদ হিংগাজিয়া।



মন্তব্য করুন