জুড়ীতে চামড়া সংরক্ষণে অনাগ্রহ

জুড়ী প্রতিনিধি : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২১ মে সকালে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৃদুল কান্তি দে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম সেলু, জায়ফরনগর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, সাগরনাল ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সরফ উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাওলানা হাবিবুর রহমান, মডেল কেয়ারটেকার মাওলানা তাজ উদ্দিন, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা বশির উদ্দিন, জুড়ী জালালীয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, সরকার চলতি বছর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ করছে। মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্বে চামড়া সংরক্ষণ করে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তবে উপস্থিত প্রতিনিধিদের অনেকেই এ বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, অতীতে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা, পর্যাপ্ত স্থান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। এছাড়া ঈদের দিনে দক্ষ শ্রমিক সংকট এবং অনভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও মত দেন তারা।
প্রতিনিধিরা জানান, সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশিরভাগ মাদ্রাসা ও এতিমখানা অতীতের মতো কোরবানির চামড়া তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি করতেই আগ্রহী। স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগ তোলা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসফিকুন নুর বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের পাশাপাশি চামড়া সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো ক্রেতা চামড়া নিতে অনাগ্রহ দেখালে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে চামড়া সংরক্ষণের অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মশালায় অংশ নেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের দেওয়া লবণ গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ফিরে যায়।



মন্তব্য করুন