জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

September 22, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মৌলভীবাজার চৌমুহনায় অনুষ্ঠিত হয়।

২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় বাসদ জেলা সদস্য অ্যাডভোকেট মো: আবুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সদস্য বিশ্বজিৎ নন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা ইনচার্জ উজ্জ্বল রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব সূত্রধর।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাসদ জেলা সদস্য ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য বিপাশা দাশ গুপ্তা, রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদর উপজেলা সভাপতি জামসেদ ভূঁইয়া, বাসদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা সংগঠক মো. সাজিদ আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের এই অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ী ভাড়া তথা পণ্যপরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়াবে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুনে বেড়ে গিয়ে দুর্বিসহ করে তুলবে। এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-সহ অন্যান্য সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকারের তরফ থেকে এসব সমস্যার কোন কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে আগুনে ঘি ঢালার মতো করে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। অন্যদিকে, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮% বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তীব্র সংকটের সৃষ্টি হবে। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার শামিল। সরকার নানা অযুহাতে ৫ মাসে ৩ বারে ৪৫ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর এই জ্বালানি মূল্যের যে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নিবে।

সমাবেশে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের বক্তব্যে দরিদ্রদের জন্য চলমান কার্ড কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেলের পাচার রোধে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বক্তব্যের তিব্র প্রতিবাদ জানান। সভায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন বিশ্ববাজারে ঘোষণা দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে আর বাংলাদেশে এর উল্টোটা দাম বৃদ্ধি করে জনগণের সাথে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতারণা করছে। বাজেটের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত করারোপ করে এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাজারকে এমনিতেই অস্থিতিশীল করে ফেলেছেন। আর এখন বলছেন ২০ টাকা করে লিটারে দাম বৃদ্ধি না করলে কার্ড কার্যক্রম বন্ধ হবে! এমন প্রহসনের কার্ড দিতে গিয়ে যদি জনগণের পকেট কাটতে হয়, তাহলে এমন তথাকথিত কার্ড দেয়ার কি দরকার। আর যেখানে প্রতিবেশী দেশ থেকে সরকার তেল ক্রয় করে সেখানে ছেলেভোলানো প্রতিবেশী দেশে পাচার হবে এমন অমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান রইল। একইসাথে এই সমাবেশ সরকারকে এই গনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে।

সমাবেশ পরবর্তীতে জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে টিসি মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com