হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন ও রেশন চালুর দাবি

September 29, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন, স্বল্পমূল্যে রেশন চালুর দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

২৮ সেপ্টেবর সোমবার সন্ধ্যায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, প্রচার সম্পাদক রুহুল আমি রোহিত, হোটেল শ্রমিকনেতা খোকন মিয়া প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতই হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা এক দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। তার উপর একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি করে পে স্কেল কার্যকর, অন্যদিকে জ্বালানিতেলের মূল্য বৃদ্ধি, গাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যের বাজারে আরেক দফা মূল্য বৃদ্ধিতে শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। হোটেল মালিকরাও প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফার বৃদ্ধি করলেও শ্রমিকদেরকে নামেমাত্র মজুরি প্রদান করছেন। এমন কি গত বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করার এক বছরের বেশি অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রমআইনের ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শ্রমমন্ত্রী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের ডেডলাইন ঘোষণা দেন। কিন্তু এতদ্বসত্ত্বেও হোটেল সেক্টরের শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইনের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। শ্রমিকরা ঐক্যবব্ধভাবে সরকার ঘোষিত মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানালে মালিকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল এলাকার হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে পুলিশ প্রশাসন ও মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নে হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের মালিক একাধিক চুক্তি করতে বাধ্য হয়। কিন্তু চুক্তি করলে মালিক তা বাস্তবায়ন না করায় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করতে গেলে মালিক বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতিষ্টান থেকে বের করে দেয়। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে চাইলেও অদ্যাবধি শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।

নেতৃবৃন্দ হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্রমিকদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন ও সকল শ্রমিকদের চাকুরিতে পুনর্বহাল করার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫-ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও মালিকরা তা প্রদান না করে যখন তখন শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করছে। শ্রম আইন স্বীকৃত ৮ ঘন্টার অধিক কর্মঘন্টার জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও মালিকরা ওভারটাইমের মজুরি না দিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২/১৩ ঘন্টা ডিউটি করতে বাধ্য করছে। এছাড়াও শ্রম আইনের অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে মালিকরা শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। দ্রততম সময়ের মধ্যে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইনের সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়ন করা না হলে শ্রমিকদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বিক্ষোভ পরিণত হয়ে দেশব্যাপী তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি ও অধিকার প্রতিষ্টার বিকল্প থাকবে না।

সভা থেকে নিত্যপণ্যের দাম কমানো, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানি থেকে আইএমএফর নির্দেশে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি করা বন্ধ, হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্রমিকদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন ও সকল শ্রমিকদের চাকুরিতে পুনর্বহাল করা, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন ও ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com