মা ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে মা/মলা, চুক্তিতে ভূমি বিক্রির টাকা গ্রহণ : রেজিষ্ট্রীর সময় আসতেই টালবাহানা

November 4, 2026,

আব্দুর রব : বড়লেখায় লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভূমি বিক্রির সম্পুর্ণ মূল্য গ্রহণ করে দলিল সম্পাদনের নির্ধারিত তারিখ আসতেই রেজিষ্ট্রী না করে নানা টালবাহানা, ওই ভুমিতে (ভিটা) থাকা ভাড়াটিয়া লোকজনকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা ও হামলার অভিযোগ ওঠেছে ভূমি বিক্রেতা মালিক, মা ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে।

প্রতারণার এই ঘটনায় অবশেষে ভুক্তভোগি স্থানীয় চা বাগান কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের স্ত্রী শেলী বেগম, ছেলে জুনেদ আহমদ ও আব্দুস সামাদ ওরফে হালিমের বসতবাড়ি সংলগ্ন নান্দুয়া (বুড়ারগুল) গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় এক চা বাগানের কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিনের জমি রয়েছে। শেলী বেগম ও তার ছেলেরা পারিবারিক বিশেষ প্রয়োজনে তাদের ৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করার জন্য সিরাজ উদ্দিনের কাছে প্রস্তাব দেন। ভুমি ও স্থাপনার (পাকা বাসা) ৩ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে গত বছরের ৬ নভেম্বর নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে মা শেলী বেগম ও তার ছোট ছেলে আব্দুস সামাদ ভূমি বিক্রির সম্পুর্ণ মূল্য গ্রহণ করেন। অঙ্গীকার করেন তিন মাসের মধ্যে বড় ছেলে জুনেদ আহমদ দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর তিনজনে মিলে সাফ-কাবালা দলিল সম্পাদন করে দিবেন। এসময় তারা বিক্রিত ৫ শতাংশ ভুমির দখল ও স্থাপনায় বসবাসকারি ভাড়াটিয়াদের বুঝিয়ে দিন। ক্রেতা সিরাজ উদ্দিন ভাড়াটিয়াদের সাথে নতুন চুক্তি সম্পাদন করে জরাজীর্ণ পাকা বসতঘরে প্রায় দেড় লাখ টাকার সংস্কার কাজ করেন। জুনেদ আহমদ দেশে ফেরার পর নানা কারণ দেখিয়ে তারা দলিল রেজিষ্ট্রী করে না দিয়ে আরো ৬ মাসের সময় নিয়ে মা ও দুই ছেলে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু দ্বিতীয় চুক্তিনামার নির্ধারিত সময়েও তারা রেজিষ্ট্রী করে না দিয়ে সিরাজ উদ্দিনের কাছে ভূমি বিক্রি ও টাকা গ্রহণের সমস্থ বিষয় অস্বীকার করে। প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগি সিরাজ উদ্দিন মা শেলী বেগম, ছেলে জুনেদ আহমদ ও আব্দুস সামাদ ওরফে হালিমকে আসামি করে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা মামলা করেন।

এদিকে গত ১৬ অক্টোবর শেলী বেগম ও তার ছেলেরা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করে বিক্রিত ভূমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালায়। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন ভাড়াটিয়া স্বপ্না বেগমসহ তার পরিবারের তিন সদস্য। এসময় তারা স্বপ্না বেগমের ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ জানান, ভূমি বিক্রির বায়নামা করে সিরাজ উদ্দিনের কাছ থেকে পুরো মূল্য গ্রহণ করার বিষয়টি তার জানা। বিবাদিরা কয়েকবার চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও বিবাদিরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি ।

শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানান, আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান। যথাশীঘ্র তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com