বড়লেখায় ঝুঁকিপূর্ণ পৌরমার্কেট ছাদ ধ্বসে পড়ে আ/হ/ত ৩ : পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ

আব্দুর রব : বড়লেখা পৌরমার্কেট ভবনটি উদ্বোধন করা হয় ২০১২ সালে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজের নানা অনিয়ম চোঁখে ভাসতে থাকে।
৬ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যার পর ভবনটির ছাদের একাংশের রড ও পলেস্তরা ধ্বসে পড়ে ৩ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- সুটকি ও সবজি ব্যবসায়ি ছিদ্দিক আলীর কর্মচারি আবু তালহা, ক্রেতা ছিদ্দিক আহমদ ও সুনিল দাস। তাদেরকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিকট শব্দে ছাদের রড ও পলেস্থরা ধসে পড়াকালিন মার্কেটে চলছিল কোনাকাটা। এসময় ব্যবসায়ি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। ধ্বসে পড়া স্থানে এসময় লোকজন কম থাকায় বড়ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, মার্কেটের ব্যবসায়িদের মাঝে যেকোনো সময় ছাদ ধ্বসে পরে বড়ধরণের দুর্ঘটনার আতংক বিরাজ করছে। এতে ভবনটিকে দ্রুত পরিত্যাক্ত ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ-ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় এই পৌরমার্কেটে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারের কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন সময়ে ঝুঁিকপূর্ণ ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নেয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।
জানা গেছে, ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে পৌর মার্কেটটির নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। শুরুতেই নির্মাণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যদিয়ে ২০১২ সালের দিকে পৌর মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ওই বছরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ কাঁচাবাজার ও সবজি বাজারের জন্য ব্যবসায়িদের বরাদ্দ দিয়ে রাজস্ব আয় করে আসছে। বিগত ২/৩ বছর ধরে মার্কেট ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পলেস্তরা ধ্বসে পড়তে শুরু করে। মারাত্মক ঝুঁিক নিয়ে ব্যবসায়ি ও ক্রেতা সাধারণ বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণের ১০/১২ বছরের মধ্যে মারাত্মক ঝুঁিকপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মাণ কাজে ঠিকদারের অনিয়ম-দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকার ভবনটির স্থায়িত্ব টিকেনি ২০ বছরও এমন অভিযোগও করেন সচেতন মহল। বড়ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা ইতিপূর্বে অনেকবার ঝুঁকিপূর্ণ এই পৌর মার্কেটটি দ্রুত অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি নিরাপদ মার্কেট নির্মাণের দাবি জানান।
পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল খালিক যুগান্তরকে জানান, পৌর মার্কেটের দুর্ঘটনা কবলিত স্থান পরিদর্শন করে ঝুঁিকপূর্ণ স্থানের দোকানগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিপূর্বে ২০২৩ সালে তৎকালিন পৌরমেয়র ও ২০২৫ সালে পৌর-প্রশাসক স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্ত এখনও কোনো নির্দেশান আসেনি। শুক্রবারের দুর্ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে আবারও চিঠি পাঠানো হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



মন্তব্য করুন