বখাটের দায়ের কুপে আহত সেই স্কুলছাত্রীর এখনো জ্ঞান ফিরেনি

এইচ ডি রুবেল॥ প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটের এলোপাতাড়ি দায়ের কুপে মারাত্মকভাবে আহত স্কুল ছাত্রীর জীবন এখন সঙ্কটাপন্ন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রাশিদুন্নবী খাঁনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকা ওই ছাত্রী ঘটনার ত্রিশ ঘন্টা পরও জ্ঞান ফিরেনি এখনো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্কুল ছাত্রী মায়মুনা আক্তার ছামিরার পাশে থাকা তার চাচা মোঃ সামছুদ্দিন রোববার রাত পনে আটটায় জানান, ছামিরার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তার শরীরের মাথায় ১৪টি সেলাই, ডান কানে ৫টি সেলাই, পায়ের হাঁটুর নিচে আরো ১৫-২০টি সেলাই দিয়ে পুরো পা ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান পুরোপুরি ফিরেনি। শুধু মাঝে মধ্যে চোখ দিয়ে তাকাচ্ছে। তার অবস্থার কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বর্তমানে সে কোন অবস্থায় আছে সেটা আমরা বলতে পারবো না। ডাক্তার এখনো আমাদের আশ্বস্ত করেননি যে আমাদের ছামিরা কেমন আছে। এ নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। এদিকে আহত স্কুলছাত্রী ছামিরা কে দেখতে রোববার সকালে হাসপাতালে যান মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শাহজালাল।
উল্লেখ্য,শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর এলাকায় ছামিরার ছোট বোনের সামনে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বখাটে জুয়েল। এ সময় স্থানীয় লোকজন বখাটেকে ধরে গণপিঠুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বখাটে জুয়েল মীরশংকর গ্রামের মৎস্যজীবী বকুল মিয়ার ছেলে। আহত স্কুলছাত্রী মায়মুনা জান্নাত ছামিরা উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের বাসিন্দা আরব আমিরাত প্রবাসী সরাফ উদ্দিনের বড় মেয়ে। ছামিরা উপজেলার আল-হেরা ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছামিরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই মীরশংকর গ্রামের মৎসজীবী বকুল মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ তার পথ আটকিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দিত। সর্বশেষ গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছামিরা ও তার ছোট বোন মনিরা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় মীরশংকর এলাকায় অপেক্ষমাণ জুয়েল তাকে প্রেম নিবেদন করে। এতে ছামিরা রাজি না হলে সে তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছামিরার মাথায়, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ছামিরার চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বখাটে জুয়েলকে আটক করে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়েলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। স্বজনরা ছামিরাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ছামিরার পরিবার জানায়, দুই-আড়াই বছর আগে স্থানীয় সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ও ছামিরাকে উত্ত্যক্ত করত একই স্কুলের ছাত্র জুয়েল। ওই সময় তার অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের নিয়ে সালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জুয়েল মুচলেকা দিয়ে রেহাই পায়। এরপর মেয়েটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার মা-বাবা ওই স্কুল থেকে তাকে বদলি করে কুলাউড়া আল-হেরা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করান।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ হামলার ঘটনায় স্কুলছাত্রী ছামিরার মা সাহারা বেগম বাদী হয়ে জুয়েল আহমদকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা চেষ্ঠা মামলা দায়ের করলে বখাটে জুয়েলকে আটক করে ১৬৪ ধারায় রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সে দা দিয়ে কোপানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে।



মন্তব্য করুন