সদর হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু হাসপাতালের নার্সরাই আমার বাচ্চাকে মার্ডার করেছে

July 28, 2019,

সাইফুল্লাহ হাসান॥ হাসপাতালের নার্সরাই আমার বাচ্চাকে মার্ডার করেছে। পশুর মতো পেট থেকে বাচ্চা টানতে শুরু করে তারা। যখন আমার স্বামী নার্সদের বলে দেয়া লোকের কাছ থেকে রক্ত না কিনে বাইরে রক্ত কিনতে যায় তখন নার্সরা আমাকে জোর করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। আমি তাদের বলি একটু আগে বললেন সিজার লাগবে। আমরাতো সিজার করতে না করিনি। আর আমার স্বামীতো রক্ত আনার জন্য গেছেন। তখন তারা আমাকে ধমক দেন। এর পর তারা আমার পেটে জোরে জোরে চাপ দিতে থাকেন। আরো কয়েকজন পশুর মতো পেট থেকে বাচ্চা টানতে শুরু করে। তখন আমি বলি বাচ্চা আসতেছেনা, আমাকে সিজারে নেন। কেঁদে কেঁদে ভয়াল সেই মূহুর্তের কথা বলেন, মৃত নবজাতকের মা সুমনা বেগম।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের বাসিন্দা মো. আওয়াল হাসান স্ত্রীর প্রসব ব্যথার কারণে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে রোগীর সাথে এরকম মর্মান্তিক আচরণ করেন হাসপাতালের নার্সরা। শেষমেশ নবজাতকটি মারা যায়।

রবিবার ১৪ জুলাই হাসপাতালের ডেলিভারী স্যুট কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে।

তিনি বলেন, বাচ্চা বের হচ্ছে না দেখে নার্সরা একজন ডাক্তারকে খবর দেন, ডাক্তার এসে টানাটানি করে বলে বাচ্চার মাথা ছিঁড়ে গেছে। তখনও আমি অনুভব করি পেটের ভেতরে পা ছটফট ছটফট করে। এতে আমার বাচ্চার হাত এবং গলার রগ ছিঁড়ে যায়। পরে তারা আমাকে এভাবেই  একা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আমার যখন সিজার লাগবে তখন তারা কেনো টানাটানি করবে। তাদের কথা মতো  ওই লোকের কাছ থেকে রক্ত না কেনায় আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলছেন তারা।

প্রসূতির স্বামী মো. আওয়াল হাসান বলেন, রোববার ভোরে আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা ওঠে। অবস্থা খারাপ দেখে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে যাই। পরে সেখান থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ৩১২ নং কক্ষের ৪৫ নং সিটে ভর্তি করি। হাসপাতালের নার্সরা রোগীকে দেখে জানান নরমাল ডেলিভারিতে সন্তাান হবে। একজন ডাক্তার এসে চেকআপ করে বলেন নরমাল ডেলিভারিতেই হবে সন্তান।

কিছুক্ষণ পর নার্সরা আবার আমাকে জানান সিজার করা লাগবে। সেজন্য মেডিসিন আনার জন্য একটা স্লিপ দেন তারা। ওই সময় হাসপাতালের এক ব্যক্তিকে মেডিসিন আনার জন্য আমার সঙ্গে দেয়া হয়। আমি তার সঙ্গে না গিয়ে অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে আনি। ওষুধ আনার পর নার্সরা বলেন রক্ত লাগবে। আগে আমার সঙ্গে যে লোককে ফার্মেসিতে পাঠানো হয়েছিল তাকে দেখিয়ে নার্সরা বলেন, তার কাছে রক্ত আছে, রক্তের দাম পাঁচ হাজার টাকা। আমি তাদের এখান থেকে রক্ত না কিনে বাইরে থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে রক্ত নিয়ে আসি।

কিন্তু এসে দেখি স্ত্রীকে নরমাল ডেলিভারির জন্য নিয়ে গেছেন নার্সরা। সাথে আমার মা’ ছিলেন, তখন তাকে খুব বেশি রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করি কাকে বলে তারা ডেলিভারির জন্য নিয়েছে। কিছুক্ষণ পর এক নার্স এসে বলেন আপনার বাচ্চা আর বেঁচে নেই। মায়ের অবস্থা ভালো না, মাকে বাঁচাতে হলে এখানে একটা সই দেন। আমি কিছু চিন্তা না করে সই দিলাম। বাচ্চার মাকে বাঁচাতে হবে ভেবে।

তিনি বলেন, যখন ভেতরে গেলাম তখন দেখলাম নবজাতকের মাথা ও হাত বাইরে, বাকিটুকু মায়ের পেটে। নবজাতকের হাত ছিঁড়ে গেছে, গলা কেটে ফেলেছেন তারা। তখন আমি দৌড়ে গেলাম নার্স আনার জন্য। এসে দেখি কোনো নার্স নেই। সবাই পালিয়ে গেছে। এ সময় আমি চিৎকার শুরু করি। তখন হাসপাতালে কর্মরত শোয়েব নামে এক ব্যক্তি আমার সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু করে। সে আমায় ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। সে বলে রোগী নিয়ে এখনই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যা। এখানে চিল্লাচিল্লির জায়গা নয়। এ সময় কান্না করতে করতে আশেপাশে সবাইকে রোগীকে বাঁচানোর আকুতি জানাই আমি। কারও কোনো সহযোগিতা পাই নি।

পরে পাশের প্রাইভেট একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে রাখেনি, তারা বলে সিলেট ওসমানীতে নিয়ে যান। তখন আমার এক আত্মীয় আল-হামরা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে সেখানে নিয়ে গেলে মায়ের পেট থেকে মৃত বাচ্চা বের করেন ডাক্তার হাদী হোসেন।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক  ডা. পার্থ সারথি দত্ত কানুনগো এ বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। এক সময় অফিসে আসেন। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com