কমলগঞ্জে রাস্তায় পাস দেওয়া নিয়ের সিএনজি অটো ও ট্রাক্টর চালকের মাঝে হাতাহাতি : ট্রাক্টর চালকের ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

November 27, 2019,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান এলাকায় রাস্তায় পাস দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে এক সিএনজি অটোরিক্সা চালকের সাথে ট্রাক্টর চালকের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ট্রাক্টর চালকের বড় ভাই  নুরুল ইসলাম (৫৫)। ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮টায় মাধবপুর চা বাগান মসজিদ লাইনে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাস্তায় পাস দেওয়া নিয়ে সিএনজি অটো চালক মিঠুন নুনিয়ার (২৮) সাথে ট্রাক্টর চালক নুরুল ইসলামের বাকবিতন্ডা হয়েছিল। এক পর্যায়ে সিএনজি অটো চালক মিঠুন নুনিয়ার লাটির আঘাতে নুরুল ইসলাম গুরুতরভাবে আহত হলে তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে এখনও রয়েছে গুঞ্জন।

এ বিষয়ে রাতে মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম মারা গেছেন তবে কারো লাঠির আঘাতে নয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর রাস্তায় পাস দেওয়া নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিঠুন নুনিয়ার সাথে নিহত বৃদ্ধের ছোট ভাই আব্দুল খালিকের হাতাহাতি হয়েছিল। ঘটনার পর বৃদ্ধের ছেলে জাবেদ মিয়া ও ভাই আব্দুল খালিক থানায় এসে কোন অভিযোগ না দিয়ে হৃদরোগে তার (নুরুল ইসলামের) মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। তারা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানান ময়না তদন্ত ছাড়া যাতে লাশ দাফন করা যায়।

ঘটনার পর বৃদ্ধের ছেলে জাবেদ মিয়া ও ভাই আব্দুল খালিক  মুঠোফোনে বলেন, কারো লাঠির আঘাতে নয় সিএনজি অটোরিক্সা চালকের সাথে হাতাহাতির ঘটনা শুনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান সরেজমিন তদন্ত করে নিহতের পরিবার সদস্যদের সাথে কথা বলেন।  এরপরই ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, তারা প্রথমে শুনেছিলেন সিএনজি অটোরিক্সা চালকের লাঠির আঘাতে নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। তাই তারা আগেই সিএনজি অটোরিক্সা চালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।  পরে নিহতের পরিবার থানায় এসে জানিয়েছে তার মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বৃদ্ধের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার পরিবার সদস্যরা তা জানিয়ে কোন প্রকার অভিযোগ না দিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com