পীরের বাজারে জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনা : মামলার রায়মূলে জমি নিজের দাবি করে মুক্তিযোদ্ধার নামে সাইনবোর্ড টানানো

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কুলাউড়া উপজেলার পীরের বাজারে জমির মালিকানা দাবি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের মামলার রায়মূলে ক্রয়কৃত ভূমি নিজের দাবি করে মুক্তিযোদ্ধার নামে টানানো হয়েছে সাইবোর্ড। এ ঘটনায় ওয়াকফ্ এস্টেটের জমিতে বসবাসকারী পিয়ারা বেগম বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া নিজের জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ নভেম্বর কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের পীরের বাজারে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পীরের বাজারে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একদল যুবক মকবুলুর রহমান চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের ১০ শতক জমি দখল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়ার ক্রয়কৃত একটি সাইবোর্ডও স্থাপন করেন। ১ নভেম্বর জমি দখলমুক্ত হলে ২৩ নভেম্বর পুনরায় মকবুলুর রহমান ওয়াকফ্ এস্টেটের জমিসহ মালিকানাধীন জমি নিজের দাবি করে মুক্তিযোদ্ধার নামে সাইবোর্ড টানানো হয়।
দু’পক্ষের পূর্ব বিরোধকৃত ভূমি নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পীরেরবাজারে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সামাজিক বৈঠক বসলেও কোন সমাধান হয়নি। ওই রাতেই দখল ও হুমকির অভিযোগ এনে ওয়াকফ্ এস্টেটের জমিতে বসবাসকারী ও জমির তদারককারী পিয়ারা বেগম বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে কুলাউড়া থানা ও স্থানীয়ভাবে দু’দফা বৈঠক বসলেও কোন সমাধান হয়নি।
সর্বশেষ ১ নভেম্বর পীরের বাজারে কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফি আহমদ সালমানের সভাপতিত্বে সামাজিক বৈঠক বসে। বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জমিটুকু মকবুলুর রহমান চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের প্রমাণিত হয় এবং জমিতে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড অপসারণ করে সেখানে মকবুলুর রহমান চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের সাইবোর্ড স্থাপন করা হয়।
অভিযোগ করে পিয়ারা বেগম বলেন, মকবুলুর রহমান ওয়াকফ্ এস্টেটের তদারককারী পিয়ারা বেগম বলেন, পাশের ৪৮ শতক জমি তার ভাই ক্রয় করে দখলে আছেন। ওয়াকফ এস্টেটের মুতওয়াল্লী ড. আবেদ চৌধুরীর কাছ থেকে তার ভাই বদরুল ইসলাম সন্নিকটের ৪ শতক জমি বন্দোবস্ত নেন। সে জমি কয়েক দশক ধরে পতিত পড়ে থাকলেও সে সময় মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দীন জমির মালিকানা দাবি করেননি। গত ২৩ নভেম্বর রাতে মকবুলুর রহমান ওয়াকফ্ এস্টেটের জমি দখল করে আদালতের রায়মূলে জমির মালিকানা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দীনের নামে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন। এ ঘটনায় আমি কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করি।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দীন বলেন, ৪ শতক জমি তার বাবা ১৯৬৯ সালে চৌধুরী বাড়ির মঈন উদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকে ক্রয় করেন। সে সুত্রে এখন তিনি এ জমির মালিক। গত ১ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের এক তরফা সিদ্ধান্তে জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করানো হয়। এর পর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। তিনি জমির মালিক বলেই গত ২৩ নভেম্বর আবারও এ জমির দখল নিয়েছেন এবং অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে দাবি করেন।
হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত জানান, মামলার রায়ে জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া। অপরপক্ষ ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানারও ওসি ইয়ারদাউস আহমদ বলেন, এঘটনায় পিয়ারা বেগমের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।



মন্তব্য করুন