বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ের টিলায় রহস্যজনক আগুন

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ের টিলায় রহস্যজনক আগুন লেগে পুঁড়ে গেছে বেশী কিছু বন। ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বনবিভাগ দিচ্ছে দায়সারা জবাব। দুই দিন পূর্বেও এখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ত্রণে আনে। সোমবার লাউয়াছড়া বন সংরগ্ন এলাকায়ও আগুন লেগে পুঁড়ে যায় বেশ কিছু বনাঞ্চল।
১৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সদরের বর্ষিজোড়া ইকো পার্ক এলাকায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষন বিভাগের বিভাগীয় অফিসের পিছনের অংশে রাস্তার পাশেই আগুন লাগলে এক সংবাদকর্মী ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ত্রণে আনলেও বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান এর আগেই তাদের লোকজন আগুন নিয়ত্রণে এনেছেন। অথচ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন বলেন বনবিভাগের কাউকে ঘটনাস্থলে পাননি। এমনিভাবে বিগত দু’দিন পূর্বেও ইকোপার্ক এলাকায় আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ত্রনে আনেন এবং পরে বনবিভাগের লোকেরা আসে। বারবার বিভাগীয় অফিসের কাছে আগুন লাগাতে অনেকে এটাকে রহস্যজনক মনে করছেন।
এদিকে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনে মঙ্গলবার ১৭ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আগুন লাগে। ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের কর্মী, হীড বাংলাদেশ এর স্টাফ, থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশের কার্যালয়ের পিছনের বনাঞ্চলে এ আগুন লাগে।
উভয় জায়গাতে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা কেহ বলতে পারছেন না। এবিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ বলেন, বনে আগুন লাগার কারণে বন্যপ্রাণীসহ উদ্ভিদের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে, এখনি এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
রবিউল ইসলাম, লিডার, ফায়ার সার্ভিস, মৌলভীবাজার ফায়ার স্টেশন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন দেখতে পেয়ে নিয়ত্রণে আনেন। এসময় তিনি বলেন, বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিছুর রহমানের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান আগুন তাদের লোকজন নিভিয়ে ফেলেছে। অথচ তখনো আগুন জ্বলছিল ও বনবিভাগের কোনও লোক সেখানে ছিলনা। তিনি আরও বলেন দু’দিন পূর্বে ইকো পার্কের সামনে আগুন লাগলে তারা এসে আগুন নিয়ত্রণে আনেন, তখনো বনবিভাগের লোকেরা জানতো না, আগুন নেভানোর পর খবর দিলে তারা আসেন।
মো: জুলহাস উদ্দিন, রেঞ্জার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্য্যালয়(ওয়াল্ড লাইফ) মৌলভীবাজার বলেন, দুই শতাংশের মত জায়গা পুঁড়ে গেছে। তবে তাদের লোকজন ও এলাকার লোকজন মিলে আগুন নিয়ত্রনে এনেছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকেদের কাছ থেকে শুনেছেন তারা আগুন নিভিয়েছেন।



মন্তব্য করুন