নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে শ্রীমঙ্গলে রিয়াজ উদ্দিনের কুংফু- কারাতের স্কুল

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক কুংফু ক্যারাতের মাস্টার খোলেছেন মার্শাল আট স্কুল। যার নাম দিয়েছেন শ্রীমঙ্গল মার্শালা আর্ট একাডেমী। তার স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর তাকে নানা প্রতিবন্ধকতায় ভুগতে হয়েছে। অনেকেই শুরুতে এতে অনিহা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। কিন্তু নানা প্রতিকুলতা অতিক্রম করে তার এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এ অঞ্চলের আগামীর সাহসী নারী শক্তির প্রতীক বলাযায়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেতে তার অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে রোটারী ক্লাব অব শ্রীমঙ্গল ও পল হ্যারিস ইন্টার ন্যাশনাল স্কুল। তিনি জানান, এই বিদ্যাটি শিখেছেন। হয়েছেন কালো ব্লেট এর অধিকারী। কিন্তু নতুন প্রজন্মেও জন্য কিছু করতে পারছিলেন না। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে একটি বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। এ অবস্থায় কয়েকজন মানুষের সাথে আলোচনা করে রোটারী ক্লাব অব শ্রীমঙ্গল ও পল হ্যারিস ইন্টার ন্যাশনাল স্কুলের মাঠটি ব্যবহারের জন্য অনুমতি পান। এর পর একজন দুইজন করে সুডেন্ট ভর্তি হতে থাকেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর উপরে। যার মধ্যে বেশিরভাগই মেয়ে। রিয়াজ জানান, তিনি মেয়েদের প্রাধান্য দিচ্ছেন কারন এটি মেয়েদের আত্ম রক্ষার পাশাপাশি আত্ম নির্ভরশীল হতেও সহায়তা করে। যিনি মার্শাল আর্ট শিখবেন তিনি নিজেকে একজন সাহসী মেয়ে হিসেবে ভাবতে পারবেন। একজন মার্শাল আর্ট জানা মেয়ে সমাজে আরো ১০টা মেয়েকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে তার বিশ^াস।
এ ব্যাপারে রোটারীক্লাব শ্রীমঙ্গল এর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রিপন জানান, শ্রীমঙ্গলে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং তাদের ক্যাম্পাসে এটি তাদের জন্য সূখকর। প্রতিষ্ঠানটি গড়ার সময় এ স্কুলে স্টুডেন্ট হবে না বলে অনেকটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন রিয়াজ। কিন্তু এখন এটি আলোর মূখ দেখেছে।
এ ব্যাপারে মার্শাল আর্ট স্কুৃলের স্টুডেন্ট তমিস্রা এর পিতা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, চীন, জাপান ও কুড়িয়ায় কুংপু ক্যারাতকে উপাসনার জায়গায় নিয়ে গেছে। এর বহুমূখী উপকার রয়েছে। বিশেষ করে এটি যদি নারীরা রক্ত করতে পারে তবে তা হবে নারীদের সামাজিক এক বিপ্লব। এর দ্বারা নারীরা আত্ম রক্ষার কৌশল জানবে, সমাজকে কু সংস্কার থেকে দূরে রাখতে পারবে। এটি ব্যয়ামের কাজও করবে। এতে শরীরে রোগ বিয়োগের প্রকুপ কম থাকবে। এরা নিজেদের দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।
বিএমএ শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি ডা: হরিপদ রায় জানান, তার বাসার পাশেই এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। সুযোগ পেলে তিনি তাদের স্কুল পরিদর্শন করেন। ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল মার্শাল আর্ট একাডেমীর দক্ষতা অর্জনকারী প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে প্রথম বেল্ট পরিধান, সার্টিফিকেট বিতরণ ও স্মারক প্রদান করা হযেছে। এতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়েছে।
পল হ্যারিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এর প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজ রুহিন জানান, মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষনের পারদর্শীতায় দেয়া হয় সাদা, হলুদ, কমলা, সবুজ, নীল, বাদামী ও কালো রংএর বেল্ট। আর এ মার্শাল আর্ট একাডেমীর বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষনার্থী ইতিমধ্যে হলুদ ও কমলা, সবুজ ও নীল রং এর বেল্টের অধিকারীও হয়েছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদেরকে তা পড়িয়ে দেয়া হয়।



মন্তব্য করুন