প্রতিনিয়ত চলছে ভুল চিকিৎসা মৌলভীবাজারে লাইসেন্স বিহীন ৩২ ডেন্টাল ক্লিনিক

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজার সদর, বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের উপজেলা সদর এবং জেলার বড় বাজার গুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ ডেন্টাল কেয়ার। হাতে গুনা দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো সরকারী লাইসেন্স, রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান। নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এতে করে রোগিরা হয়রানির শিকার এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বছরে ২/১বার লোক দেখানো অভিযান হলেও বন্ধ হচ্ছেনা ওই সব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বড় বড় বিজ্ঞাপন ও সাইনবোর্ড দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলা সদরে ৭টি, বড়লেখায় ৫টি, কমলগঞ্জে ৭টি, শ্রীমঙ্গলে ৫টি, কুলাউড়ায় ৩টি, জুড়ীতে ৫টি রাজনগরে ২ টি লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ডেন্টাল কেয়ার গড়ে উঠেছে। এছাড়া জেলার বড় হাট-বাজার গুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক ডেন্টাল কেয়ার নামের ভুয়া প্রতিষ্ঠান। গ্রাম্য কৃষক, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ডাক্তার নামে বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রী লাগিয়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে কেউবা ডেন্টাল সার্জন সেজে দাঁতের চিকিৎসার নামে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে যাচ্ছেন। রোগী প্রতি ৫০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ভিজিট নিচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের কোনো লাইসেন্স নেই। অনেক চিকিৎসক এসএসসি পাশ করে কোনো ডাক্তারের সঙ্গে কাজ করেছে মর্মে এখানে এসে ডাক্তার সেজে কাজ করছেন। সরকারের আইন ভঁঙ্গ করে নিজের নামের সামনে ডাক্তার লিখে ব্যবস্থা পত্রও দিচ্ছেন তারা। অনেকেই আবার নিজের স্ত্রীকেও কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ডেন্টল সার্জন মানাচ্ছেন। স্বামী-স্ত্রী এক সাথে করছেন চেম্বার।
বিডিএস পাশ করা ছাড়া কোনো লোক ডেন্টাল সার্জন লিখতে পারবে না। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ডেন্টাল সার্জন দাবি করে চিকিৎসাপত্র ও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। যোগ্যতা ছাড়াই এরা বছরের পর বছর অপচিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এসব ভুয়া চিকিৎসক রোগির দাঁতের স্ক্যানিং, দাঁতের ফিলিং, দাঁত তোলা, দাঁত বসানোসহ দাঁতের নানা রোগের চিকিৎসার নামে হয়রানি করে লুটিয়ে নিচ্ছেন জেলাবাসীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। এসব জায়গায় এসে রোগিরা না জেনে চিকিৎসা নিয়ে বিপদে পড়েন। পরে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় তাদের।
জানা গেছে, এদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও নেই। এ সকল ভুয়া চিকিৎসক ডাক্তারের সঙ্গে কয়েক মাস হেলপারের কাজ করে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন রোগী বলেন, “আমার বাতিজাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোড একটি ডেন্টাল কেয়ারে গিয়ে ছিলাম। এসময় ডাক্তার একজন মহিলা রোগীর নিচের দাঁতে পরিবর্তে উপরের দাঁত পালান। ভালো দাঁত পালানোর কারণে মহিলা ডাক্তারের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আশপাশ থেকে লোকজন আসতে শুরু করেন। পরে ডেন্টাল সার্জন মানধারী ওই চিকিৎসক নিজের ভুল স্বীকার করেন। এভাবে ভুল চিকিৎসায় নষ্ট হচ্ছে অনেকের ভালো দাঁত। কিন্তু টাকার মালিক হচ্ছেন সার্জন মানধারী ভুয়া চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, আগামী জুলাই পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয়া হয়েছে। ওই সময়ের ভীতরে লাইসেন্স না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন