মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ভূতাত্বিক জরিপের জন্য বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছে (বাপেক্স)

সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ভূতাত্বিক জরিপের জন্য বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্রাপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড((বাপেক্স)।
বনপ্রাণী প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো এর বরাবরে ২০ নভেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে ভূতাত্বিক জরিপ দলের প্রধান (বাপেক্স) আব্দুল্লাহ আল জরিপ দলকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য লিখিত চিঠি দেন।
মৌলভীবাজার ভূতাত্বিক জরিপ দলের প্রধান (বাপেক্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ভূতাত্বিক জরিপের বিষয়টি এতথ্য নিশ্চিত করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্রাপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড(বাপেক্রা) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্টান যাহা দীর্ঘদিন ধরে দেশের তেল,গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় অত্র প্রতিষ্টান ২০১৬-২০১৭ মাঠ মৌসুমে মৌলভীবাজার জেলার বাতচিয়া ভূগঠন ও এর আশপাশের পাহাড়ী এলাকায় ভূতাত্বিক জরিপ পরিচালনার কর্মসূচী গ্রহন করেছে। উক্ত কর্মসূচীর মাধ্যমে অঞ্চলে তেল,গ্যাস অনুসন্ধান ও ভূতাত্বিক মূল্যায়নের কাজ করা হবে। বর্তমানে ভূতাত্বিক জরিপ দল মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে পৌরসভার সন্নিকটে সাময়িকভাবে দলের বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে অবস্থান করেছে। ভূতাত্বিক জরিপ দল আগামী ৫-৬ মাসব্যাপী জরিপ বাতচিয়া ভূগঠন তথা কমলগঞ্জ,শমশেরনগর,কুলাউড়া,শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজারও এর আশপাশের পাহাড়ী অঞ্চলে ভূতাত্বিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
লাউয়াছড়া বিট অফিসার রেজাউল করিম ভূতাত্বিক জরিপে বিষয়টি এতথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, প্রথমতো বনে ভূতাত্বিক জরিপ দলকে ঢুকতেই দিব না। তিনি আরও বলেন,লাউয়াছড়া বনের বন্যপ্রাণী আবাসস্থল রয়েছে। যদি জরিপদল বরে ঢুকে তেল গ্যাস অনুসন্ধান চালায় এতে বড় আকারের ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে প্রানীকুল লোকালয়ে গিয়ে মানুষের হাতে মারা পড়তে পারে। এবিষয়ে আমরা চিন্তিত রয়েছি।
তবে ভূতাত্বিক জরিপ দলের প্রধান (বাপেক্স)) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ইং তারিখে কমলগঞ্জে অবস্থান করেছি। তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন,আমাদের ৩৬ জন সদস্য বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠাঁলতলী,রাজকান্দি পাহাড় ও বিভিন্ন ছড়ায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত মৌলভীবাজারসহ জেলার শমশেরনগর,কুলাউড়া,শ্রীমঙ্গল লাউয়াছড়াসহ তার আশ-পাশের এলাকায় এ তেলগ্যাস অনুসন্ধান চলবে। ভূতাত্বিক জরিপকালে বন্যপ্রাণীর উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরণের কোন যন্ত্র আমাদের কাছে নেই যে বন্যপ্রাণীর উপর প্রভাব পড়বে।
প্রসঙ্গত: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সেগুন, চাপালিশ, আগর, রক্তন সহ মোট ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিত, ০৪ প্রকার উভচর প্রাণী, ০৬ প্রজাতির সরিসৃপ ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।
বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী উল্লুকের বাসস্থান হিসেবে এই বন বিখ্যাত। উল্লুক ছাড়াও এ বনে রয়েছে চশপড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছোবাঘ, মায়া হরিণ, অজগরসহ নানা প্রকার জীবজন্তু। উদ্যানের পাখির মধ্যে রয়েছে সবুজ ঘুঘু, বনমোরগ, তুর্কিবাজ, সাদা ভ্রু সাতভায়লা, ঈগল, হরিয়াল, কালোমাথা টিয়া, কালো ফর্কটেইল, ধূসর সাতশৈলী, পেঁচা, ফিঙে, লেজকাটা টিয়া, কালোবাজ, হীরামন, কালোমাথা বুলবুল, ধুমকল ইত্যাদি। সাধারণ দর্শনীয় পাখির মধ্যে টিয়া, ছোট হরিয়াল, সবুজ সুইচোরা, তোতা, ছোট ফিঙে, সবুজ কোকিল, পাঙ্গা, কেশরাজ প্রভৃতির দেখা মিলে।



মন্তব্য করুন