২২ মাস ধরে চা সংসদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বি- বার্ষিক চুক্তি উপেক্ষিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ দীর্ঘ ২২ মাস ধরে চা শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় তাদের মজুরী বাড়েনি। বাড়েনি তাদের বোনাসসহ অনান্য সুযোগ সুবিধা। এ বস্থায় অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাকন লাল কর্মকার।
তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পর পর বাংলাদেশ চা শ্রিমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশীয় চা শ্রমিকদের মধ্যে দ্বি-বার্ষিক চুক্তি হয়। সে চুক্তিতে বাধ্যতামূলক শ্রমিকদের বেতন বোনাস বাড়ে। কিন্তু ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও অদ্যাবদী নতুন চুক্তি না করায় পুরাতন হিসেবেই তারা ১০২ টাকা করে মজুরী নিচ্ছেন। এতে সাধারণ চা শ্রমিকরা চলমান দ্রব্যমুল্যের তাল মিলিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে ।
শ্রীমঙ্গল হরিণছড়া চা বাগানের শ্রমিক বেহুলা বারাইক ও ভুড়বুড়িয়া চা বাগানের মীরা আচার্য জানান, সামনে দূর্গা পূর্জা। পূজার আগে তাদের বর্ধিত অর্থটা পেলে খুবই ভালো হতো। এ ব্যপারে নীতিনির্ধারকরা গরিমসি করে ২২ মাস অতিবাহিত করেছে। আর দু মাস গেলে একটি নয় দুই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি জানান, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর দ্বি-বার্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে । ওই সময় চুক্তি সম্পাদন হলে এক দফা বেতন ভাতা বাড়তো। ২০ এর ডিসেম্বরে পরবর্তী দুই বছরের চুক্তি হওয়ার কথা সে মোতাবেক আরেক দফা বেতন ভাতা বাড়তো। এই দীর্ঘ সুত্রিতার কারনে শ্রমিকরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বালিশিরা ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র বারাইক জানান, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সাথে দ্বি-বার্ষিক চুক্তির জন্য তারা প্রস্থাব দিয়েছেন তাদের মজুরী করতে হবে ২৬০ টাকা। পুজার আগে দুইমাসের সম পরিমান বর্ধিত বোনাস প্রদান করা, স্থায়ী বাসস্থান ও ঝুঁকিভাতা বাড়ানো সহ তাদের ২০ দফা দাবী বাস্তবায়ন করার। বিগত ২২ মাসে এ নিয়ে প্রায় ১০/১২টি বৈঠক হয়েছে। এতে বাংলাদেশীয় চা সংসদ দৈনিক হাজিরা ১০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা পর্যন্ত করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু চা শ্রমিকরা এতে রাজী নন। এই দাবীতে বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ চা শ্রমিকরা শ্রীমঙ্গল চৌমোহনা চত্ত্বরে প্রতিবাদ সভা করে। এর আগে একই দাবীতে চা শ্রমিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে শুরু হয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।
একই দাবীতে বিভিন্ন চা বাগানে গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই ঘন্টা কর্ম বিরতিও পালন করে সাধারণ শ্রমিকরা। তারা দুই দিনের সময় দিয়ে কর্ম বিরতি স্হগিত করেন। যদি এর মধ্যে মালিক পক্ষ থেকে কোন সারা না পান তা হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন।
এ ব্যপারে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট বিভাগীয় ব্রান্স চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ সরকারের মজুরী কমিশিনের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে মজুরী কমিশনের মধ্যস্থতায় আলোচনা প্রকৃয়াধীন। এ অবস্থায়ও তারা আন্দোলন করছে। কর্ম বিরতি করছে। তা ছাড়া তাদের চাহিদা মতো মজুরী বৃদ্ধির সুযোগ নেই। কারন করোনার জন্য চা বিক্রি হচ্ছেনা। এ বছর উৎপাদনও গত বছরের তুলনায় ২৫ ভাগ ঘাটতিতে রয়েছে। অনেক বাগান অকশনে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম মুল্যে চা বিক্রি করছেন।



মন্তব্য করুন