শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এলো চায়ের রাজ্য

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ চায়ের রাজ্য কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষ বলছেন, ‘হেমন্ত মানে শীত শীত ভাব’, ঠান্ডা বাতাস, শীতল প্রকৃতি। শেষ রাতের দিকে ঠান্ডা লাগে, তখন হালকা কম্বল বা চাদর গায়ে মুড়ে দেই।’
গত কয়েকদিন ধরে বিকেল হলেই হেমন্তের কুয়াশা নামা শুরু করে চায়ের রাজ্যে। ক্ষেতের উপর উড়াউড়ি করে গঙ্গাফড়িংয়ের দল। ভেজা ডানায় ওরা ঠিক মতো করতে উড়া-উড়ি করতে পারে না। ধানের ক্ষেত ডিঙিয়ে পূর্ব দিগন্তে কুয়াশামেখে উঠে ভোরের সূর্য। হালকা শীত শীত ভোরের ভেতর মিষ্টি রোদের ওম।
হেমন্ত মানেই শীতের আগমনী বার্তা। শিশিরভেজা ঘাস, ভোরে ও সন্ধ্যায় কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি। শীতের আগাম সবজির খেতে কৃষকের ব্যস্ততা। আলমিরায় বন্দি থাকা গরম কাপড়গুলো আলনায় স্থান দেওয়াসহ আরো কত কি!
সবুজ ঘাসের ওপর ভোরের সূর্যের আলো হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক, দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রতিটি ঘাসের মাথায় ও চা পাতার কুড়িতে কুড়িতে যেন মুক্তদানার মতো শিশির কণা জমে আছে।
চায়ের রাজধানী জুড়ে হলুদে-সবুজে একাকার নয়নাভিরাম অপরূপ প্রকৃতি। চারদিকে ধূসর আবহ ঘিরে রাখছে। হিম হিম, স্বল্পায়ু দিন ক্রমে মিইয়ে যাচ্ছে, শেষ বিকেলে কুয়াশার আবছা চাদর প্রকৃতিকে ঢেকে শিশিরের শব্দের মতো নামছে সন্ধ্যা।
মূলত পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল ধরা হলেও আশ্বিন-কার্তিকের দিকেই গুটি গুটি পায়ে শীতের আগাম বার্তা জানান দেয়।
কলেজ শিক্ষার্থী রুহুল ইসলাম হৃদয় ও প্রিয়াংকা সিন্হা বলেন, উপজেলার মাধবপুর, বালিগাও, মাগুরছড়া ও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় কুয়াশা বোধ হয় একটু আগেই চলে এসেছে। শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের মেঠো পথে। ভোরের শিশির জমেছে ঘাসে।
এদিকে শীত আসি আসি করছে। এ সময়টা এই উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর রানীবাজার ঘোড়ামারা, মাধবপুর, মাঘমাড়া, বালীগাও, পতনঊষার, শমসেরনগর ও তার আশপাশের এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষ শুরু হয়েছে। শিম, লালশাক, টমেটো, লাউ, ফুলকপি, বাধাঁকপিসহ নানা রকমের সবজির বীজ বপন শুরু করেছেন কৃষকরা।
গ্রামবাংলার সরল-সাদামাটা মানুষেরা বলছে, অপ্রাপ্তি আর দুঃখ-বেদনা যতই থাকুক, হেমন্ত এলে প্রকৃতির মতোই তাদের জীবনেও নেমে আসে এক শীতলতা, এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে হৃদয়ে।



মন্তব্য করুন