২৫ হাজার টাকায় সমাধান- গরুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৪ উপজেলার ১ লাখ ৬০ হাজারে বেশি গ্রাহক ৭ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন রাতে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

June 24, 2019,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে পল্লীবিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গরুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলার ৪ উপজেলায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক ২৩ জুন রোববার বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৬ঘন্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শেষতক ২৫ হাজার টাকায় বিষয়টি আপোষ মিমাংসা হলে রাত ন’টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
এর আগে লাইন মেনটেইনেন্স এর জন্য ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণা দিয়ে প্রচন্ড গরমের মধ্যে শনি ও রোববার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহককে ১৪ ঘন্টা করে বিদ্যুৎহীন রেখেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে রোববার রাতে বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা প্রায় দেড়ঘন্টা বড়লেখা পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে রাখে।
স্থানীয় লোকজন ও পল্লীবিদ্যুত বিভাগ সুত্রে জানা যায়, রোববার বেলা আনুমানিক ২ টায় কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছে পল্লীবিদ্যুতের একটি খুঁটিতে বাঁধা গরু বিদ্যুৎ স্পর্শে মারা যায়। এতে কুলাউড়া গ্রীড স্টেশন থেকে কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গরুটির মালিক স্থানীয় চাতলগাঁও গ্রামের আছকির মিয়ার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে পারুল বেগম। গরু মারা যাওয়ার পর গরুর মালিকসহ স্থানীয় লোকজন গরুর ক্ষতিপূরণের দাবিতে পল্লীবিদ্যুতের লোকজনকে বিদ্যুৎ চালু করতে বাঁধা দেয়। এতে ৫ উপজেলার ১ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিলেন। প্রচন্ড গরমে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফি আহমদ সলমানকে অবহিত করলে তিনি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলারকে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বসে বৈঠক।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ চরম উদাসীনতার পরিচয় দেয়। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কুলাউড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার ইকবাল আহমদ শামীম জানান, বৈঠকে গরুর মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। পল্লীবিদ্যুত বিভাগ সেই টাকা পরিশোধে সম্মত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন মেরামত করে রাত ৯টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন।
পল্লীবিদ্যুতের শ্রীমঙ্গল জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার শিবুলাল বসু জানান, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আমাদের খুঁটির কাছে যেতে দেয়নি। ফলে কাজ করা সম্ভব হয়নি। রাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পর পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কাজ করছে। রাত ৯টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com