জোরপূর্বক মাদ্রাসার গাছ কর্তন ইউপি চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ইমাদ উদ দীন॥ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান। ক্ষমতার এমন দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক নিজের অনুগতদের নিয়ে নিজ এলাকার একটি মাদ্রাসার বেশ কিছু গাছ কেটে নিজের হস্তগত করেন। ওই সময় এলাকার স্থানীয় মানুষের অনুরোধ ও প্রতিবাদ তোয়াক্কা করেননি তিনি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ,বন বিভাগ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই দিন দুপুরে ওই গাছগুলে কেটে নিজের আয়ত্বে নেন তিনি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজানের বিরুদ্ধে স্থানীয় রফিনগর মাসুক মিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার গাছ কাটার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। জানা যায় গাছ কাটার অভিযোগ এনে গেল বছরের ৯ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট ৫ নং আমলী আদালতে সি-আর ২০৭/১৯ নং মামলা দায়ের করেন মাদ্রাসার সুপার বদর উদ্দিন আহমদ তালুকদার। এই মামলার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তার উপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও মামলা সূত্রে জানা যায় রফিনগর মাসুক মিয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বরমচাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। মাদ্রাসার সুপার মাদ্রাসার উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য মাদ্রাসার চারপাশের সীমানায় আকাশি,বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৮০টি গাছ লাগান। প্রতিটি গাছ ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতিটি গাছের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১,৫০০টাকা। গত বছরের ৪ নভেম্বর সকালে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজানসহ তার ভাড়াটে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে মাদ্রাসায় লাগানো গাছগুলো কেটে দেন। যার বাজার মূল্য প্রায় দেঢ় লক্ষ টাকা। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ও তার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা গাছ কর্তন করতে আসলে মাদ্রাসার সুপার বাঁধা দেন। এসময় চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে সুপারকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। পরে মাদ্রাসার সুপার বিষয়টি স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে প্রথমে ৬ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন। যার অনুলিপি তৎকালীন এমপি ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে দেয়া হয়। এদেরে অবগত করার পরও কোনো বিহিত না হওয়াতে অসহায় ও বাধ্য হয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে বাদী আদালতের স্মরণাপন্ন হন। এলাকাবাসী জানান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানে তাই প্রভাব খাঁটিয়ে স্থানীয় মানুষের অনুরোধ ও নিষেধ করা সত্বেও রাস্তার কাজের অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসার পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের ৮০টি গাছ কেটে নিয়ে যান। গাছ কাটার সময় তার রৌদ্রমূর্তি দেখে ও তার নিজ বলয়ের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব লীলায় প্রাণ রক্ষায় কেউ মুখ খোলেননি। ওই সময় নানা ভাবে তারা প্রতিবাদ করলেও তা ভ্রুক্ষেপও করেননি শাহাজাহান। তারা জানান শুধু জোরপূর্বক এই গাছ কাটা নয় চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেক সময়ই এলাকার লোকেরা তটস্ত থাকেন। তার নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের বিষয়েও কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহসও করেন না। তার এসকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে নানা কায়দা কৌশলে নেমে আসে শাস্তির খড়গ। কারন তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান। তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদীদের দমিয়ে রাখতে রয়েছে তার একটি নিজস্ব বাহিনী। যারা মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখেন। এ ব্যাপারে বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এবিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়ারদৌস হাসান বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আসার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।



মন্তব্য করুন