১০ বছর পর আদালতের রায়ে জমি ফিরে পেলো দরিদ্র জুয়েল

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ার হাজিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় এক প্রভাবশালীর দখলে থাকা কটারকোনা মৌজার ৩.৭৫ শতক ভূমি আদালতে রায়ে প্রায় ১০ বছর পরে ফিরে পেলেন জমির প্রকৃত মালিক দরিদ্র জাহেদ আলী জুয়েল। জমিটি নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর থেকে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা ও মালিকানা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক দ্বন্ধ চলছিলো উভয়পক্ষের মধ্যে। মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত বাদী-বিবাদীর দলিলাদি যাচাইপূর্বক চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল জমির মালিক জাহেদ আলী জুয়েলের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কুলাউড়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ২০ অক্টোবর নিজ জমিতে ফিরলেন দরিদ্র জাহেদ আলী।
মামলার রায় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী শেখ জামসেদ আলীর পুত্র শেখ জাহেদ আলী (৪৪) হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা মৌজার জে.এল নং-১২৫, এস.এ খতিয়ান-২৮০, দাগ নং-৮১৩ এর ৩.৭৫ শতক ভূমি পাশ্ববর্তী টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা (তাঁর নানি) দুধ বান বিবির কাছ থেকে খরিদা সূত্রে (রেজিস্ট্রি দলিল নং-২১৮৬/২০১০) ক্রয় করেন। উল্লেখিত ভূমিটির দলিল জাল ও নিজের মালিকানা দাবি করে প্রতিপক্ষ হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা এলাকার বাসিন্দা মৃত হবিব উল্ল্যার ছেলে প্রভাবশালী সেলিম আহমদ মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত (বড়লেখা) বরাবরে ২০১০ সালের ১৮ মার্চে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৭/২০১০ ইং এবং পরবর্তীতে স্বত্ব-১০৪/১৭ একই আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের দলিলাদি যাচাই করে বাদি সেলিম আহমদের দায়েরকৃত দলিল জাল বলে প্রমাণিত হয় এবং বিবাদী জাহেদ আলীর দলির সঠিক ও জমির প্রকৃত মালিক বলে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বুধবার রায় প্রদান করেন মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. রিয়াজুল ইসলাম। আদালতের নির্দেশে ২০ অক্টোবর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈমের সহযোগিতায় কুলাউড়া থানা পুলিশ সরেজমিন বিরোধপূর্ণ জমিতে উপস্থিত হয়ে জমির প্রকৃত মালিক জাহেদ আলীর নিকট পুনরুদ্ধারকৃত জমিটি দখল প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে এই জমিটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
এ ব্যাপারে জমির মালিক শেখ জাহেদ আলী বলেন, প্রভাবশালীর কাছ থেকে আইনী লড়াইয়ে জমিটি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেয়েছি। কিন্তুু এখন প্রতিপক্ষ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও মামলা করে হয়রানির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর জমির প্রকৃত মালিক তাঁর জায়গায় ফিরে যেতে আমরা সবধরণের সহযোগিতা করেছি। জমির দখল নিয়ে যাতে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।



মন্তব্য করুন