কুলাউড়া তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়- এক যুগ পর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন করার নির্দেশ ইউএনও’র

স্টাফ রিপোর্টার॥ কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের অনৈতিক কর্মকান্ড,লাম্পট্য, অনিয়ম দুর্নীতি,শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে আলোচিত কুলাউড়া উপজেলার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার মানউন্নয়ন ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। ইউএনও ও বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এলাকার অভিভাবক,জনপ্রতিনিধি,শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে ২১ অক্টোবর জরুরি সভায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ ১২ বছর পর বিদ্যালয়ের নির্বাচন নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে ওই এলাকায়। তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমেদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ৪ মাস ধরে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিগত ১২ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের ভোটে নির্বাচিত কোন পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাই কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার সহায়তা নিয়ে ও নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে একের পর এক অনিয়ম ও দূর্ণীতি করে যাচ্ছেন। তার যৌন হয়রানীর শিকার ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকার থানায় দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার নিম্ন আদালত থেকে জামিন লাভ করে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ র্নিবিঘেœ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক ছাত্রীও। সামাজিক নিরাপত্তার কারণে ভয়ে ও লজ্জায় কোন ছাত্রী অভিযোগও করেনি। তার এমন অনৈতিক আচরনে গত কয়েক বছরে এ এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয় ত্যাগ করে পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ একাধারে তেলিবিল উচ্চবিদ্যালয়ের এমপিওভুক্তির সরকারী বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন আবার সরকারী ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার হিসেবেও সরকারি অর্থ গ্রহন করছেন। তার বাড়িতে রয়েছে সাব পোষ্ট অফিস। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি নিয়মে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এক বিজিবি সদস্যের মেয়ের। ওই শিক্ষিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। এপ্রিল মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হয়েছিলেন। গত ৬ জুলাই বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা করেছিলেন শিক্ষিকা। একই সাথে কুলাউড়া উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তিনি। আর কারনে প্রধান শিক্ষকের অনুসারীদের হুমকি ধামকিতে ভীত হয়ে নিরাপত্তা হীনতায় এই শিক্ষিকা গত তিন মাস ধরে তেলিবিল উচ্চবিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ নিজ এলাকার আতিক হাসান নামে একজনকে এই শিক্ষিকার স্থলে খন্ডকালীণ নিয়োগ দিয়েছিলেন। এজন্য এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কোন অনুমতি নেননি ওই প্রধান শিক্ষক। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ জানান, তাঁর উপর আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। এডহক কমিটির সভায় দ্রুত পরিচালনা কমিটির নির্বাচন করার জন্য ইউএনও মহোদয় নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষে ভোটার তালিকার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার কাজ শুরু করতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। অভিযোগকারী শিক্ষিকার বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ায় পূর্ণ নিরাপত্তা দানেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম যেভাবে চলছে তা অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য করুন