কুলাউড়ার জন্য কাজ করতে গিয়ে আমি হয়েছি নিঃস্ব- এম এম শাহীন

December 18, 2019,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ জনপ্রতিনিধি হিসেবে কুলাউড়ার মানুষের উন্নয়নের স্বপ্ন সফল করতে আমেরিকার মতো দেশের আয়েশি জীবন ফেলে এসে কাজ করতে গিয়ে আমি হয়েছি নিঃস্ব। আমার আগে-পরে যারাই জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তাদের সময় এলাকার কল্যাণ না হলেও তাদের বিপুল অর্থবিত্ত বেড়েছে। তার পরও আমার কোনো কষ্ট নেই, কারণ এলাকার মানুষ আমাকে তাদের মনে মণিকোঠায় সাদরে ঠাঁই দিয়েছে।’
গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে জয়চ-ী ইউনিয়ের কামারকান্দি বিজয় যুব সংঘ এবং বিজয়া বাগান মাঠে সবুজ কুঁড়ি যুব সংঘ আয়োজিত ৪৮তম মহান বিজয় দিবস পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অত্যন্ত আবেগাক্রান্ত হৃদয়ে এসব কথা বলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন।
তিনি আরো বলেন, ‘অর্থবিত্তের লোভে আমি রাজনীতিতে আসিনি। অর্থলোভই যদি থাকত তাহলে আমি আমেরিকাতেই থাকতাম। কিন্তু আমি নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে আজও মানুষের পাশে আছি। এই উপজেলার মানুষের ভালোবাসাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। দেশ ও বিদেশের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে এলাকার মানুষের ভালোবাসায় আজও তাই আমি টিকে আছি। প্রতিদিন শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো না কোনো এলাকার ছোট-বড় অনুষ্ঠানে আমাকে ভালোবেসে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমিও আগ্রহ নিয়ে তাদের মাঝে উপস্থিত হই। কোনো কিছু দিতে না পারলেও মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা দেখে নিজেও আপ্লুত হই। অথচ একসময় যাদের কিছুই ছিল না, রাজনীতির নামে জনপ্রতিনিধি হয়ে দুর্নীতি করে আজ তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে, শোষণ-লুণ্ঠন করছে, তাদের দিন শেষ। বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে এসব লুটেরার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন।’
এম এম শাহীন আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিতে হবে আমাদের। আত্মত্যাগী লাখো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও নিতে হবে। বিশেষ করে যাঁর নেতৃত্বে সেদিন গোটা জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, বাঙালি জাতির সেই অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, এ মাটিতে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার জন্ম না হলে আমরা আজ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে একটি পাসপোর্ট পেয়েছি।’
ঠিকানার চেয়ারম্যান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণহীন সমাজ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উত্থান শুরু হয়েছে, তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আঁকড়ে রাখতে হবে।’
দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় উন্নয়নে কুলাউড়া বারবার পিছিয়ে পড়ছে এমন মন্তব্য করে এম এম শাহীন বলেন, ‘আমরা কুলাউড়াবাসী সব সময় কেন যেন স্রোতের বিপরীতে থাকি। বিগত নির্বাচনে সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীককে পরাজিত করে এই কুলাউড়াবাসী আবারো উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কুলাউড়াবাসী এমন একজনকে এমপি নির্বাচিত করেছেন, যিনি বিগত ১০ বছর এই কুলাউড়ায় একটিবারের জন্যও পা রাখেননি। গত নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে এসে জনগণকে বোকা বানিয়ে বিজয়ী হয়ে ধোঁকা দিয়ে আবার সেই ঢাকায়ই চলে গেছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রায় এক বছরে মাত্র ৮ দিন তিনি কুলাউড়ায় এসেছেন। ঘটনা-দুর্ঘটনা এমনকি একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও তাকে (এমপি) কুলাউড়ায় আনতে পারেনি, যা কুলাউড়াবাসীর জন্য সত্যি লজ্জার বিষয়।’
বিজয়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক সৈয়দ সবুজ আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান টুটু, আব্দুল আজিজ শামীম, রাজনীতিবিদ তফজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য আজমল আলী, বিশিষ্ট দলিল লেখক ও সার্ভেয়ার সোনাওর আলী, রাজনীতিবিদ রুহুল আমিন, মুমিন আহমদ, কাওছার আহমদ বুলবুল প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com