মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমানের ইন্তেকাল

December 20, 2019,

এইচ ডি রুবেল॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নং সেক্টরে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন কুলাউড়া উপজেলার সাবেক কমান্ডার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান আতা (৮০)।

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশকে করেছিলেন শত্রুমুক্ত। একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ হবে, দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হবে এমন স্বপ্ন ছিল মুক্তিযোদ্ধা আতার। তার স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু আতাউর রহমান আতা অবশেষে অর্থের অভাবে সু-চিকিৎসা না পেয়ে ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। জীবদ্দশায় তার পরিবার সু-চিকিৎসার অর্থের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে কোন সাড়া পাননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার কুলাউড়া শহরস্থ নিজ বাসভবনে দুপুর ১টায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নারাজেউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য শুভাকাংকী,গুনগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ এশা মরহুমের জানাযা উত্তরবাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে মসজিদ গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমানের পরিবারসূত্রে জানা যায়,আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত সাবেক কমান্ডার আতা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ৪ নং সেক্টেরের অধীনের দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কুলাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু উপজেলা কমান্ডারই ছিলেন না রাজনৈতিকভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগের কুলাউড়া উপজেলা কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালনসহ সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

এছাড়া ৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর সারাদেশে পুলিশের সাড়াশি অভিযানে তৎকালীন সময়ে গ্রেফতার হয়ে তিনি দীর্ঘ ৪ মাস কারানির্যাতন ভোগ করেন। যৌবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও নিজের প্রিয় রাজনৈতিক দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করলেও বার্ধক্যে এসে তিনি ছিলেন অসহায়। মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান আতা ব্রেইন ষ্ট্রোক করে পারকিনসন্স ডিজিজ রোগে দীর্ঘদিন থেকে শয্যাশায়ী ছিলেন। কোন ছেলে সন্তান না থাকায় ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে টানাপোড়ায় চলতো তার সংসার। অর্থিকভাবে তার পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় পরিবারের তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব ছিল না। তিনি তার ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহযোগীতা কামনা করেছিলেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com