বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুইদিন ব্যাপী কুলাউড়া উদীচীর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব পালন

এইচ ডি রুবেল॥ মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ গড়তে এসো, মানুষের মুক্তির মিছিলে সমবেত হই’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কুলাউড়া উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব শুরু হয়। ২৫ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল ৩টায় কুলাউড়া স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরের বিজয় মঞ্চে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা উদীচীর সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা, সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও কৃষকনেতা কমরেড আব্দুল মালিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জাতীয় সংগীত ও সংগঠনের সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী কুলাউড়া শাখার শিল্পীরা। স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করেন ডানকান ক্যামেলীয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে সংগঠনের সকল সদস্য, সংস্কৃতিকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক খন্দকার লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উদীচীর সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা শংকর সাওজাল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সহ-সভাপতি এডভোকেট মকবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু, কুলাউড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ড. রজত কান্তি ভট্টাচার্য, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ এলাহী কুটি, জেলা পরিষদ সদস্য শিরীন আক্তার চৌধুরী মুন্নী, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কমরেড মো. আব্দুল লতিফ, জেলা উদীচীর সভাপতি এড. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মীর ইউসুফ আলী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মহিব উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড়া উদীচীর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক, খেলাঘরের সভাপতি খন্দকার কামাল প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব অমলেন্দু চক্রবর্ত্তী বিপুল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৬৮ সালে কেন্দ্রীয় উদীচী প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া উদীচীর যাত্রা শুরু হয়। উদীচীর চিন্তা সবসময় প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে মাঠে থাকা। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ও স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনগণের দাবি আদায়ের সংগ্রামে উদীচী যুগে যুগে রাজপথে নেমেছে। আগামীতে দেশের সকল সংকটে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে মাঠে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যান্ড দল ‘জলের গান’ ও উদীচী মৌলভীবাজার জেলা সংসদের শিল্পীরা।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান এবং ঢাকার আনান আউল ও অবিনাশ বাউলের পরিবেশনায় লোকসঙ্গীত অনুষ্ঠিত হয়।



মন্তব্য করুন