মানবতার ফেরিওয়ালা চেয়ারম্যান বাচ্চু’র বিরামহীন ছুটে চলা

April 12, 2020,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ পেশা জীবন শুরু করেছিলেন চারণ সংবাদকর্মী হিসেবে, এখন তিনি একজন সফল জনপ্রতিনিধি। সবকিছু মাড়িয়ে কুলাউড়ায় তাঁর পরিচয় একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। বলছি সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চুর কথা। তিনি উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বিদায়ী বছরের জুন-জুলাই মাসে মনু নদীর ভাঙনের সাথে এক অসম যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর এখন লড়ছেন করোনা ভাইরাস নামক এক মহামারি যুদ্ধের সাথে। এই মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ক্ষুধা নিবারণে তিনি প্রাণপ্রণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের এই কঠিন মুহুর্তে কুলাউড়ায় ত্রাণ চাইতে গিয়ে এক সাংসদের কাছে তুলোধুনো হতে হয়েছে ত্রাণ চাওয়া এক ব্যক্তিকে। এমনকি ওই ত্রাণ চাওয়া ব্যক্তিকে গরীব বলে হাকালুকি হাওরে গিয়ে ডুব দেও এমন কথাও বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাংসদ কর্তৃক একজন সাধারণ মানুষ যেখানে তুলোধুনোর শিকার হচ্ছেন সেখানে সামান্য একজন ইউপি চেয়ারম্যান (আব্দুল বাছিত বাচ্চু) ব্যক্তি উদ্যোগে কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার জন্য দিনরাত বিরামহীনভাবে ছুটে চলেছেন। মানবিক কারণে এসব খাদ্য সহায়তা কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু। এখন পর্যন্ত ১৬’শ পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং আরো ৬’শ পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রদান চলমান রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যানবাহনসহ সকল দোকানপাট বন্ধ থাকায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের কয়েক সহস্রাধিক কর্মজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ। যার কারণে সবাই ক্ষুধার জ্বালায় এক মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেই অসহায় ও কর্মহীন মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ইউনিয়নের বিত্তবান, প্রবাসী ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং শোভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এই খাদ্য সহায়তা ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ১৬০০’শ কর্মহীন, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দুঃস্থ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।
কমপক্ষে তিন দিনের এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে (চাউল, আলু, মসুরী ডাল/চানার ডাল, পেঁয়াজ, ও ১টি করে সাবান। পাশাপাশি সরকারিভাবে ৩০০ দুঃস্থ ও কর্মহীন পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারিভাবে আরো ১২৫ পরিবারে ত্রাণ সহায়তা প্রস্তুুত রয়েছে। চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ইউনিয়নের আরো ১৫টি গ্রামে ৬০০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগকে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ প্রশংসার চোখে দেখছেন। পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষদের সচেতন করে তুলছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে ইউনিয়নের ৯০টি মসজিদে মুসল্লীদের সচেতনতার জন্য ১টি বালতি, ১ টি মগ ও ১টি করে সাবান দেওয়া হয়। জনসচেতনতায় ইউনিয়নের সকল বাজারে হাত ধৌত করারও ব্যবস্থা করেছেন।
ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জুনাব আলী জানান, যেখানে বিপদ সেখানে আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে দেখতে পাই। আমরা উনার মতো একজন চেয়ারম্যান পেয়ে হাজীপুরবাসী ধন্য।
ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার আব্দুল মুনিম জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান সাংবাদিকতা পেশা থেকেই এসেছেন। অতীতে সাংবাদিক থাকতে যেভাবে নিরীহ নির্যাতিত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কলম ধরতেন এখন ঠিক একইভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছেন।
ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, ২০১৮ সালে বন্যায় সরকারি বেসরকারি ভাবে উনি যে ত্রাণ এনেছেন হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষ এর আগে এতো ত্রাণ পায়নি। এখন করোনা আসার পর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগনের পাশে আছেন বিরামহীনভাবে।
এক প্রতিক্রিয়ায় হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু এ প্রতিবেদককে জানান, ‘বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ থেকে রেহাই পেতে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া সরকারি নির্দেশনায় সবকিছু বন্ধ থাকায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমার আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার প্রবাসী ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠামাত্র। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়নের ১৬’ শ কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক কারণে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।’ আরো ৬০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রদান চলমান রয়েছে। এ ধরণের খাদ্য সহায়তা প্রদান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com