কুলাউড়ায় পুলিশের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ :  স্কুল-মসজিদ কমিটিতে নেতৃত্ব দিতে আধিপত্যের গ্রুপিং

April 20, 2020,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের চারশত বছরের পুরাতন একটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে নেতৃত্ব দিতে আধিপত্যের গ্রুপিং নিয়ে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একে অপরকে দোষারোপ ও হামলার অভিযোগ এনে পৃথক পৃথক তিনটি অভিযোগ দায়ের করেছেন পঞ্চায়েতের মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু জাবেদ পাপ্পু, মো. রাশীদ আলী ও সম্পাদক বলয়ের সাইফুদ্দিন আহমদ নামের এক ব্যক্তি। এ নিয়ে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, চারশত বছরের পুরাতন সুলতানপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু জাবেদ পাপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ উর রহমান খান মুরাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছিলো।

সম্প্রতি মসজিদটির নবনির্মিত ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্তের পথে হলেও স্থানীয় সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে আগ্রহ প্রকাশ করায় আহমদ উর রহমান মুরাদ ও ওই স্কুলের বর্তমান সভাপতি আবু জাবেদ পাপ্পুর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং বিভিন্ন নাটকীয়তার পরিবেশ তৈরি হয়।

গত ১২ এপ্রিল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদের সম্পাদক মুরাদের কাছে স্থানীয় বাসিন্দা রাশীদ আলী মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসেব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সভাপতি পাপ্পুর উপস্থিতিতে বাকবিতন্ডা ও দস্তাদস্তি হয়। এসময় স্থানীয়রা উভয়পক্ষকে শান্ত কর যার যার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পরদিন ১৩ এপ্রিল রাশীদ আলী বাদী হয়ে তাঁর বাড়িতে দু’জন মহিলার ওপর হামলার অভিযোগ এনে মুরাদসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন  কুলাউড়া থানায়। এ ঘটনার জেরে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও প্রাইমারী স্কুলের বর্তমান সভাপতি আবু জাবেদ পাপ্পু তাঁর বাড়িতে হামলা ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ এনে মুরাদসহ ৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পক্ষান্তরে, মুরাদ বলয়ের সাইফুদ্দিন আহমদ (ধনু মিয়া) তাঁর বাড়িতে হামলার  অভিযোগ এনে রাশীদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এ তিন অভিযোগের ঘটনায় পুলিশ পৃথক পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয়রা জানান, অভিযোগকারী ব্যক্তিরা একে অপরের সাথে দীর্ঘদিন থেকে সুসম্পর্কের সাথে এলাকার স্কুল-মসজিদ পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। কিন্তুু সম্প্রতি সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে আগামীতে সভাপতি হওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। ব্যক্তিগত এসব বিরোধের জেরে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও মসজিদের হিসাব বিষয়টিও আলোচনায় নিয়ে আসেন। তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে শান্তিপ্রিয় এলাকায় আজ মানুষ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আইনশৃংখলা অবনতি হওয়ারও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু জাবেদ পাপ্পু, আহমদুর রহমান মুরাদ, রাশীদ আলী ও সাইফুদ্দিন আহমদ তাদের পৃথক পৃথক বক্তব্যে দাবি করে জানান, তারা প্রত্যেকই নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে নির্দোষ দাবি করছেন। এবং একে অপরকে দোষারোপ করছেন। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।

স্থানীয় পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান বলেন, স্কুল-মসজিদ নিয়ে সৃষ্ট সকল বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার কথা বলেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলাকার সবাইকে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মাসুদ আলম বলেন, তিনটি অভিযোগের বিষয়ে পৃথক পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। সকল পক্ষকে সংঘাতে না জড়ানোর জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com