বড়লেখায় ৩ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষকের ধান বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আব্দুর রব॥ বড়লেখার দাসেরবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চক্রবর্তীসহ ৩ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষকের ধান বিক্রির ৫২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্বপন চক্রবর্তীর নেতৃত্বের অসাধু সিন্ডিকেট গত আমন মৌসুমে নানা কুটকৌশলে সরকারী গুদামে ধান সরবরাহ করায় প্রকৃত অনেক কৃষক সরকারী দামে ধান বিক্রি করতে পারেননি। এব্যাপারে ভুক্তভোগী দু’জন কৃষক গত ৩১ মে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দাসেরবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চত্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম উদ্দিন ও ইউপি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বক্করের অসাধু সিন্ডিকেট গত আমন মৌসুমে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের সরাসরি সরকারী দামে ধান বিক্রি করতে দেয়নি। তারা কৃষকের নিকট থেকে কৌশলে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করেছে। ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকের ধান বিক্রির পর তারা কৃষককে কম টাকা ধরিয়ে দিতো। আবার বিক্রি করার মতো ধান না থাকা কৃষকের কার্ড সংগ্রহ করে বাহিরের উপজেলা থেকে নিুমানের ধান কিনে গুদামে বিক্রি করেছে। উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির উত্তর বাগিরপার গ্রামের কৃষক কৃপাময় দেবনাথ ও দিপন দেবনাথের আমন ধান বিক্রি করে দেয়ার কথা বলে গত ২৫ জানুয়ারী তাদের কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন দাসেরবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চক্রবর্তী, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর ও উপজেলা আওয়মী লীগ নেতা সুনাম উদ্দিন। স্বপন চক্রবর্তীর সিন্ডিকেট এ দুই কৃষকের ২ টন আমন ধান সংগ্রহ করে খাদ্যগুদামে পাঠিয়ে বিভিন্ন কাগজে তাদের স্বাক্ষর রেখে টাকা উত্তোলনের পর দেয়া হবে জানিয়ে বিদায় করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক কৃপাময় দেবনাথ ও দিপন দেবনাথ জানান, ২৭ জানুয়ারী স্বপন চক্রবর্তী, সুনাম উদ্দিন ও আবু বক্কর তাদেরকে খাদ্য গুদামে নিয়ে ধান বিক্রির বিভিন্ন কাগজে সই রেখে টাকা পরে পাওয়া যাবে জানিয়ে ফিরিয়ে দেন। ধান বিক্রির টাকার তাগদা করলে গুদাম থেকে পাননি বলে জানান। এরপর তাগদা করলে তারা ১ টন ধানের দাম ১৫-১৬ হাজার টাকা নিতে বলেন। আমাদের কৃষি কার্ডও আটকে রাখেন। গুদামে ১ টন ধান ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করে আমাদেরকে ১৫-১৬ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় আমরা নেইনি। পরবর্তীতে তাগদা করলে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। অবশেষে তারা প্রশাসনের শরনাপন্ন হয়েছেন।
ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চক্রবর্তী ধান বিক্রির টাকা আত্মসাৎ ও কৃষি কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এ দুই কৃষকের নিকট থেকে আবু বক্কর ও সুমাম উদ্দিন ধান ক্রয় করেছে। তিনি মধ্যস্থতা করেন মাত্র। তাদের নামের কার্ড দিয়ে অন্য কৃষকের ধান অগেই গুদামে বিক্রি করা হয়। তাদের ধান বাহিরে কম দামে বিক্রির জন্য আবু বক্কর ও সুনাম উদ্দিন কম টাকা দিতে চাইছে। কিন্ত তারা কম টাকা নিতে নারাজ। বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান ধান বিক্রির টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন