কালভার্টে উঠতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে!

August 27, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় জনদুর্ভোগ লাগবে প্রায় ৯ বছর আগে ছড়ার ওপর নির্মিত কালভার্টে উঠতে এখন ব্যবহার করতে হয় বাঁশের সাঁকু ! কালভার্টের উভয় পাশের এপ্রোচ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় এটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠে। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও সুফল না পাওয়ায় নিজেরা সাঁকু তৈরী করে কালভার্ট ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর-বাজারিতল গ্রামের ভেতর দিয়ে একটি ছড়া বয়ে গেছে। এক সময় ওই ছড়ার ওপর বাঁশের সাঁকো ছিল। এতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় চারটি গ্রামের হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। ২০০৮ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন চলাচলের জন্য ছড়ার ওপর কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১১ সালের দিকে সেখানে কালভার্ট নির্মাণ কাজ  শুরু হয়। পরের বছর কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারণে ওই বছরই ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কালভার্টের খুঁটির নিচের পাকা অংশ ভেঙে দুই পাশের উয়ং ওয়ালের মাটি সরে যায়। এরপর এলাকার লোকজন একাধিকবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা কালভার্ট সংস্কারে কোন উদ্যোগই নেননি। নিরুপায় হয়ে এলাকার লোকজন কয়েকবার কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট করে কোনমতে চলাচলের উপযোগী করেন। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হয়নি। ঢলের পানিতে কালভার্টের খুঁটির নিচের পাকা অংশ ভেঙে যাওয়ায় দুই পাশের উয়ং ওয়ালের মাটি ভেসে যায়। এই অবস্থায় স্থানীয় লোকজন কালভার্টে উঠতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন।

এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বাবু বলেন, জনদুর্ভোগ লাগবে প্রায় ৯ বছর আগে কালভাটর্টি নির্মাণ করা হলেও দুর্ভোগ কমেনি। নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারণে ওই বছরই পাহাড়ি ঢলে এটির দুইপাশের মাটি সরে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন দুইপাশে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করেন। কিন্তু বর্ষায় আসতেই সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এলাকার লোকজন বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিদের কয়েকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। নিরুপায় হয়ে সেখানে সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে। এটি দ্রুত মেরামত হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

শিক্ষক এম তারেক হাসনাত বলেন, কালভার্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এটি দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। সংযোগ রাস্তা না থাকায় গাড়িও চলাচল করে না। এজন্য সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন রোগী ও বয়স্ক মানুষ। এটি মেরামতে কেউই কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তাই স্থানীয়রা বাঁশ ফেলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন জানান, কালভার্টটি অনেক পুরনো। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটির সংযোগ সড়ক নেই। ঢলের পানিতে সংযোগ সড়ক ভেসে গেছে। মানুষজন এখন বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কোনো বরাদ্দ নেই। পেলে দেখবেন।

এদিকে ১৬ আগস্ট কালভার্টটি মেরামতের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৃহত্তর মোহাম্মদনগর যুবসমাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com