নির্মাণ কাজ দেখতে গিয়ে হামলায় আহত ৫ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার ফকিরের বাজারে লন্ডন প্রবাসী জামাতার দোকানঘরের নির্মাণ কাজ দেখতে গিয়ে ৩ স্বজনসহ প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় আহত হয়েছেন শ্বশুড় হাজী ফয়জুর রহমান সালাম। গোজব ছড়িয়ে তাদেরকে ধরে গণধোলাই দিয়ে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পুলিশে সোপর্দ করা। এঘটনায় আহত হাজী ফয়জুর রহমান সালাম হামলাকারী ৪ ব্যক্তির নাম উল্লেখ ও ১২/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা করেছেন।
বড়লেখা থানায় ১৭ অক্টোবর দায়েরকৃত ৮ নং মামলা সুত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জের বাগলা গ্রামের হাজী ফয়জুর রহমান সালামের মেয়ের জামাই জাহাঙ্গীর হোসেনের বড়লেখা উপজেলার ফকিরবাজারে জামাতা জাহাঙ্গীর হোসেনের কয়েকটি দোকান ও ভিটা রয়েছে। জামাতা ক্রয়কৃত ভিটায় দু’তলা ফাউন্ডেশনের বিল্ডিং নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। জাহাঙ্গীর হোসেন লন্ডনে থাকায় শ্বশুরকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেন। জামাতার অনুরোধে হাজী ফয়জুর রহমান সালাম নির্মাণ কাজ শুরু করলে কয়ছর আহমদ, আব্দুস শুকুর, ফয়সল আহমদ, জুনেদ আহমদ গংরা অহেতুক বাধা-আপত্তি করেন। বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্থ করতে তারা থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা করে। প্রতিটি মামলাই আদালত খারিজ করেন। গত ১৭ অক্টোবর সকালে তিনি মিস্ত্রি নিয়ে দোকানের নির্মাণকাজ করতে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে কয়ছর আহমদ, আব্দুস শুকুর, ফয়সল আহমদ, জুনেদ আহমদ গংরা দা ও লাঠিসোটা দিয়ে আক্রমন চালায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমার সাথে আসা জামাতার বন্ধু টুটু মিয়া আমাকে বাচাতে গেলে দা দিয়ে তার হাতে কুপ মেরে রক্তাক্ত করে গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। টিটুকে বাচাতে গিয়ে তার বন্ধু বাবুল হোসেন মুন্না, সাবুল আহমদ ও হাসান আহমদ হামলার শিকার হন। প্রাণরক্ষার্থে পালানোর চেষ্টা চালালে বিবাদীরা লোক জড়ো করে ধাওয়ার পর আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করে।
গোলাপগঞ্জের হাজী ফয়জুর রহমান সালাম জানান, জামাতা জাহাঙ্গীর হোসেন লন্ডন থাকায় আমাকে তার বিল্ডিং নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছে। প্রায় ৬ মাস ধরে কয়ছর, ফয়সল, শুকুর গংরা নানাভাবে বাধা-আপত্তি করছে। নির্মাণকাজ আটকাতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা দিয়েছে। প্রতিটি মামলা আদালত খারিজ করেছেন। জামাতা জাহাঙ্গীরের কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ওই দিন কাজ দেখতে গেলে আব্দুস শুকুর, ফয়সল, কয়ছর গংরা পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। হামলা চালিয়ে পকেটে থাকা টাকা পয়সা ও জামাতার এক বন্ধুর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশ আমাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না পাঠালে তারা মেরেই ফেলতো। এঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।
থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, হাজী ফয়জুর রহমান সালামসহ ৪ ব্যক্তিকে ফকিরবাজারের কিছু লোক ধাওয়া করে। খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছেন। এব্যাপারে হাজী ফয়জুর রহমান সালাম ঘটনাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন