মামলার চার্জ গঠন, জেলের ভয় দেখিয়ে ঋণ গ্রহিতার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী

October 21, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় দেড় বছর আগে টিএমএসএসের ঋণ পরিশোধ করেও হতদরিদ্র এক গ্রাহক রেহাই পাচ্ছেন না এনজিওটির স্বেচ্ছাচারিতা আর হয়রানীর কবল থেকে। এবার মামলার চার্জ গঠন, ওয়ারেন্ট আর জেলের ভয় দেখিয়ে ঋণ গ্রহিতার ছেলে রাশেদ আহমদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করছে সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা আসাদ আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন টিএমএসএসের বিভিন্ন অফিসে বারবার ধর্না দিয়েও মামলার নথিপত্রের সঠিক তথ্য পাননি।

২১ অক্টোবর বুধবার তিনি সংশ্লিষ্ট আদালত খুঁজতে সিলেট আদালত পাড়ায় ঘুরে অবশেষে মামলার নথিপত্রের সন্ধান পেয়েছেন। অমানবিক এ বিষয়টি জেনে সচেতন মহলের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইতিপুৃর্বে টিএমএসএসের জাকারিয়া হোসেন ও মাহবুবুর রহমান নামে দুই মাঠকর্মী অনেক গ্রাহকের কিস্তির টাকা আদায় করে ঋণের হিসাবে জমা না দিয়ে তা আত্মসাত করেছে। কিন্তু কোম্পানী আজও নিরীহ এসব গ্রাহকদের টাকার কোন হিসাব দেয়নি।

জানা গেছে, টিএমএসএস-১ এর বড়লেখা শাখা থেকে ২০১৮ সালে ২০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ উত্তোলন করেন উপজেলার রোকনপুর গ্রামের গ্রাহক রাবিয়া বেগম। উচ্চহারে সুদ আদায় করায় গ্রাহক যথারীতি কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। ১০ হাজার টাকা খেলাপি হলে ২০১৯ সালের মার্চে টিএমএসএস রাবিয়া বেগমের ছেলে রাশেদ আহমদের বিরুদ্ধে সিলেটের একটি আদালতে মামলা করে। মামলার সমন পেয়েই ঋণ খেলাপি রাবিয়া বেগম টিএমএসের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেন। টিএমএসএস কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলেও ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে আদালতকে কিছুই জানায়নি। টিএমএসএসের সেচ্ছাচারিতায় গ্রাহক রাবিয়া বেগমের ছেলে রাশেদ আহমদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। চলিত বছরের ২৫ মার্চ বড়লেখা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে টিএমএসএস অফিস ঋণ নেই মর্মে ছাড়পত্র দেয়ায় ২৬ মার্চ বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাশেদ আহমদকে জামিন দেন। এরপর নিরীহ হতদরিদ্র গ্রাহক আর খোজখবর নেননি।

ভুক্তভোগী রাশেদ আহমদ অভিযোগ করেন, মায়ের নেয়া ঋণ পরিশোধের ১ বছর পরও টিএমএসএস মামলা নিষ্পত্তি করেনি। গ্রেফতারের পর ম্যানেজার নব কুমার বিশ্বাস বলেছিলেন লকডাউনের পর মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিবেন। মামলা প্রত্যাহারতো দুরের কথা টিএমএসএসের আইন কর্মকর্তা আসাদ আহমদ ফোন দিয়ে বলছেন, ‘তুমার মামলার চার্জ গঠন হবে, অফিসে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিজ খরচে ২জন উকিল ধরে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। নতুবা আবার ওয়ারেন্ট হবে, ৬ মাসেও জামিন মিলবে না।’ বারবার তাদের কাছে ধর্না দিয়েও মামলার এজাহার, নম্বর, কিংবা কোন আদালতে মামলা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য দেননি। গরীব মানুষ, এত টাকা পাব কোথায়। এরআগে অযথা ওয়ারেন্ট করিয়ে অনেক টাকা খরচ করিয়েছেন বলেও তাদের মন গলাতে পারিনি। বুধবার তিনি সিলেট আদালত পাড়ায় ঘুরে অবশেষে মামলার নথিপত্র পেয়েছেন।

টিএমএসএসের আইন কর্মকর্তা আসাদ আহমদ জানান, রাশেদ আহমদ যোগাযোগ না করায় মামলাটি চার্জগঠন পর্যায়ে। কোন আদালতে মামলাটি চলছে এবং একটি সংস্থার আইন কর্মকর্তা হয়ে দেড় বছর আগে ঋণ পরিশোধ স্বত্ত্বেও মামলা নিষ্পত্তির নামে গ্রাহকের নিকট ৫ হাজার টাকা দাবী করা কতটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব না দিয়ে উল্টো তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, পারলে আমার বিরুদ্ধে লিখেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com