কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে হামলা- জড়িতদের শাস্তি ও ভূমি সমস্যার সমাধান চায় নাগরিক প্রতিনিধি দল

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ হামলা ও দখল আতঙ্কে থাকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া পুঞ্জিতে সম্প্রতি হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি ও পুঞ্জির এক খাসিয়া পরিবারের ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছে একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল। শনিবার পুঞ্জি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচী ব্যবস্থাপক এভিলিনা চাকমার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, হবিগঞ্জ বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, এএলআরডি এর প্রতিনিধি এ কে এম বুলবুল আহমেদ, নিজেরা করি’র কেন্দ্রীয় কর্মী মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক রিপন বানাই প্রমুখ। এছাড়া আদিবাসী পরিবেশ আন্দোলনের সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক জোসেফ গোমেজ এবং কুলাউড়ায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের লোকজনের সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইছাছড়াপুঞ্জিতে ৫২টি খাসিয়া পরিবার থাকে। সেখানকার বাসিন্দা জেসপার আমলেংরংয়ের প্রায় পাঁচ একর জায়গায় একটি পানের জুম রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় টাট্রিউলি গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুমটি দখল করে নেন। এ ব্যাপারে জেসপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ নভেম্বর ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশের একটি দল জুমে গিয়ে অভিযান শুরু করেন। এ সময় জুমে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি কাঁচা ও টিনশেডের একটি আধা পাকা ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই জমি জেসপারকে বুঝিয়ে দেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যায় রফিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুঞ্জির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে একটি মুদিদোকান ও পুঞ্জির গির্জায় ঢুকে ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় পুঞ্জির লোকজন বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় রফিক মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা হয়।
কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় জানান, মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে মৌলভীবাজারের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরও তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে প্রধান আসামি পলাতক। তাঁকেসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ২২ নভেম্বর রবিবার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছেন। এর আগে গত শনিবার প্রতিনিধি দল ইছাছড়া পুঞ্জিবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। পুঞ্জিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় এখানে বসবাস করে আসছেন। এখন চক্রটি তাদের উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিনিধি দলটি পুঞ্জিবাসী, ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বলেও জানিয়েছেন দলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম জানান, ‘আমরা গত সপ্তাহে ইছাছড়া পুঞ্জিতে হামলার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন করেছি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পুঞ্জিতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা পরিবেশ রক্ষার নিয়ামক।’
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, ‘প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুলাউড়ার ইসাছড়াপুঞ্জির ভূমির বিরোধ নিয়ে কথা বলেছেন। তারা আমাদের কাজের প্রশংসা করেছেন। সেদিনের হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা করেছি। তাদের আতঙ্কের কারণ নেই।



মন্তব্য করুন