ললিতকলা একাডেমীর উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী উরাং সম্প্রদায়ের ভাষা ও বর্ণলিপি কর্মশালা সমাপ্ত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জ উপজেলার মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর আয়োজনে ১৫ দিনব্যাপী উরাং সম্প্রদায়ের ভাষা ও বর্ণলিপি কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারী বিকাল সাড়ে ৩ টায় উপজেলার মিরতিঙ্গা চা বাগান শ্যামসুন্দর মন্দিরে সমাপনী অনুষ্ঠানে কর্মশালা সম্পন্ন হয়।
মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী সূত্রে জানা যায়, চর্চার অভাব ও বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ণমালা না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব ভাষা। কমলগঞ্জ মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর আয়োজনে বাৎসরিক প্রশিক্ষণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর ভাষা ও বর্ণলিপি বিষয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কর্মশালা শুরু হয় গত ১৯ জানুয়ারী। ১৫ দিনব্যাপী কর্মশালায় মিরতিঙ্গা চা বাগানের উরাং সম্প্রদায়ের ৩০ জন শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জন শিক্ষকের তত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়। এজন্য একাডেমীর পক্ষ থেকে উরাং সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের যথাযথ উপকরণ ও সম্মানী প্রদান করা হয়।
কমলগঞ্জ মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর নির্বাহী কমিটির সদস্য লেখক আহমদ সিরাজ এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর প্রশিক্ষক অজিত কুমার সিংহ, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর নির্বাহী সদস্য অনজনা সিনহা, সাংবাদিক নূরুল মোহাইমীন, সমাজকর্মী দীপু আহমেদ রাসেল সহ ললিতকলা একাডেমীর কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা উরাং ভাষায় কথা বলে ও নৃত্য পরিবেশন করে। আলোচনায় দাবি জানানো হয়, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে। ভাষার মাসে উরাং সম্প্রদায়ের ভাষা ও বর্ণলিপি কর্মশালার মতো অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা নিয়েও এধরণের কর্মশালা আয়োজন করা সময়ের দাবি।



মন্তব্য করুন