কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকিতে মৌলভীবাজার : রিপোর্ট বিলম্বে পাওয়ায় সংক্রামণ ছড়াচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার॥ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে দেশের মধ্যে র্শীষে রয়েছে প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজার। দিন দিন যেমন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, তেমনি বাড়ছে মৃত্যু। জেলায় করোনা টেষ্টের জন্য কোন পিসিআর না থাকায় অন্য জেলা পাঠাতে হয়। এত করে কয়েক দিন বিলম্ব হয়। ফলে নমুনা দেয়া ব্যক্তি রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত সর্বত্র স্বাভাবিক চলাচল করছেন। নমুনা দেয়া অনেকের শরিরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ছে। রিপোর্টে করোনা পজেটিভ জানার পর আক্রান্ত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে যান। রিপোর্ট বিলম্বে পাওয়া ও নিজের অজান্তে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেকের মাঝে সংক্রামণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
জানা গেছে জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় সিলেট ও ঢাকায় নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। আর ওই নমুনা গুলো পরীক্ষা শেষে ধীরগতিতে আসছে রিপোর্ট। তাই জেলা জুড়ে নমুনা যেমন ঢালাও ভাবে সংগ্রহ হচ্ছে কম। তেমনি সংগৃহীত নমুনার ফলাফলও পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন বেশি করে নমুনা পরীক্ষা হলে জেলার করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র ওঠে আসবে। এ অবস্থায় দ্রুত ল্যাব স্থাপনের দাবি জেলাবাসীর। মার্চ মাসে মৌলভীবাজরে করোনা আক্রান্তের হার ছিলো ৫ শতাংশের নিচে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আক্রান্তের হার দাঁড়ায় ২২ থেকে ৩০ শতাংশে। আর চলতি মাসে এই হার কমবেশি অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার ৯ এপ্রিল সিভিল সার্জন অফিস জানায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে ৯৬ টি নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬০। এরমধ্যে ৮ জন হাসপাতালে, অন্যরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ। এদের মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ২২ জন, শ্রীমঙ্গলের ৩ জন, রাজনগরের ১ জন এবং কমলগঞ্জের ১ জন রয়েছেন। জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৩৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৬ জন। এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মারা গেছেন ২৫ জন। তবে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও জেলার বাহিরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নিয়ে বেসরকারি পরিসংখ্যনে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের।
সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী মোঃ জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন এ জেলায় দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই অধিক ভাবে পরীক্ষার জন্য এখানে পিসিআর ল্যাব জরুরী। তাই দ্রুত পিসিআর ল্যাব স্থাপনেরও প্রক্রিয়া চলছে।



মন্তব্য করুন