মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ঈদ কেনাকাটা: ক্ষুদ্র ও মাঝারী বিপণীতে ক্রেতা কম

ওমর ফারুক নাঈম॥ মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ঈদ কেনাকাটা। মৌলভীবাজারের শহরের অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাত সর্বত্রই কেনাকাটা। তবে কেনাকাটার ধুম নেই শহরের ক্ষুদ্র ও মাঝারী বিপনীগুলোতে। এ জন্য অবশ্য বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
গেল বছর প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে রমজানের প্রথম সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছিলো। মধ্য রমজানের আগেই এক দফা বেশ ভালই বিক্রি হয়। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকে তীব্র দাবদাহ ও দফায় দফায় বৃষ্টি। এ কারণে এখনও মার্কেটমুখী হচ্ছেন না ক্রেতারা। আর এবারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বন্যার কারণে প্রবাসীদের আনাগোনাও কম। এছাড়াও রমজানের পূর্বে বাজেট ঘোষিত হয়েছে। যার ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ গতি হয়েছে। যার প্রভাব পরেছে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের লোকজনের উপরে। এছাড়া, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদিঘিসহ বেশ কয়েকটি হাওর প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে হাওরের ব্যুরো ফসল ও মাছ। হাওর অঞ্চলের কৃষক ও মৎস ব্যবসায়ীদের ঘরে নেই ঈদের কেনাকাটা ও আনন্দ। জুন মাসের শুরুতে মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ, কুলাউড়ায় মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনের ফলে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। নষ্ট হয়ে গেছে নদী তীরবর্তী জনপদের আয়ের প্রধান উৎস ধান ও সবজি। দফায় দফায় ভাঙনের কারণে শতাধিক গ্রামীণ জনপদে নেই ঈদের আনন্দ। আর এসব কারণে এবার প্রবাসীরা ঈদ করতে দেশ মুখি হচ্ছেন না।
তবে কেনাকাটার আবহ বইছে মৌলভীবাজারের অভিজাত শপিংমল, বিপণিবিতানগুলোতে। দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে থরে থরে সাজানো নামীদামি ব্র্যান্ড ও বিদেশি পোশাক। আবার ক্রেতা টানতে র্যাফেল ড্র কিংবা বিশেষ ছাড়ের আয়োজন রেখেছেন কেউ কেউ।

অভিজাত মার্কেটগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কেট হচ্ছে এমবি ক্লথ স্টোর, বিলাশ ডিপাটমের্ন্টাল স্টোর, জুলিয়া শপিং সিটি, এম.আর ফ্যাশন, আলমদিনা ক্লথ স্টোর, আশরাফ সেন্টার, আহমেদ ম্যানশন, সেরাটাউন ফ্লাজা, সেভেন স্টার, শাপলা ম্যানশন, আর.কে কমপ্লেক্স। সব শপিং সেন্টারগুলোতেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নামি-দামি বিপনী বিতানগুলির পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলিতেও হরেক রকম ডিজানের কাপড় সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। হকাররা জানিয়েছেন গেল বছরের চেয়ে এবছর ক্রেতাদের আনাগুনা কম।
মৌলভীবাজারের কয়েকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এখন ঈদের পুরোধমে কেনাকাটা শুরু হয়নি। পৌর মিনি মার্কেটের ব্যবসায়ী রাসেল আহমদ জানিয়েছেন, রমজানের শুরু হয়েছে। এখন থান কাপড় ও ফেব্রিক্স বিক্রি হচ্ছে কিছুটা। অন্যান্য দোকানে বিক্রি শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ঈদেও কয়েকদিন পূর্বে বাজারে বিক্রি বাড়তে পারে। যদিও শহরের বড়বড় শপিংমল ও বিপনী বিতানে জমেচে ঈদ বাজার। শহরের প্রধান দুই পোশাক বিপনী এমবি ও বিলাসে ক্রেতাদের ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড় লক্ষকরা যায়। এমবি ক্লথ ষ্টোরের ব্যবস্থাপক নিকিলেষ রায় জানিয়েছেন, গেল বারের বেচা-বিক্রির কথা মাথায় রেখে এবার উন্নতমানের কালেকশন আনা হয়েছে। তিনি জানান, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের টেনশন বাড়ছে। পৌর মিনি মার্কেটের ব্যবসায়ী কাজী দাইয়ান জানিয়েছেন, এখনও কেনাকাটা জমে উঠেনি। এবার তার প্রতিষ্ঠান আফরোজ বুটিকসে আধুনিক ও রুচিশীল পণ্যের সমাহার ঘটিয়েছেন বলে জানান।



মন্তব্য করুন