গ্রামীণ জনপদে ঈদ উদযাপিত

June 29, 2017,

ওমর ফারুক নাঈম॥ ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই শহর ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে এসেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামগুলোতে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

দিনের শুরুতে সবাই দলে দলে ছুটে যান ঈদগাহে। নামাজ শেষে চলে কোলাকুলি আর কুশল বিনিময়। এছাড়াও ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধরা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত।

সোমবার সকাল ৭টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

বাউরঘড়িয়া মুটুকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের নামাজ আদায় করতে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে যাচ্ছে। নতুন কাপড় পরে আনন্দঘন পরিবেশে সবাই শরিক হচ্ছেন জামাতে।

মুসল্লিদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ওই দুই গাঁয়ের একটি ঈদগাহ রয়েছে। সোয়া ৮টায় সেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই দুই গ্রাম সহ অন্যান্য গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। একপর্যায়ে সেই ঈদগাহে উপস্থিত হন পাতাকুঁড়ির  প্রতিবেদক। সেখনে গিয়ে দেখা গেছে, দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে আসছেন। কেউ কেউ প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, রিকশা, আবার কেউ কেউ সিএনজিতে আসছেন। আবার হেঁটে আসছেন অনেকেই।

সঠিক সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হয় সেখানে। দেওয়ানি মসজিদের ইমাম আকিল উদ্দিনের ইমাতিতে বাইরঘড়িয়া মুটুকপুর ঈদগাহ ময়দানে শত মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

ঈদগাহ কমিটির সেক্রেটারী মুহিবুল ইসলাম বলেন, বাউরঘড়িয়া মুটুকপুর ইদগাহে দুই গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করনে। সেখানে আশে পাশের কয়েক গ্রামের মানুষও ঈদের নামাজ পড়েন।

এক পর্যায়ে সকাল ৯টায় মুটুকপুর গ্রামে প্রবেশ করে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেই গ্রামের শিশু কিশোররা দলে দলে রাস্তা দিয়ে হাটছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে কয়েকজন দলবদ্ধভাবে একে অপরের বাড়িতে যাচ্ছেন।

মুটুকপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী নজরুল ইসলামের মেয়ে জিনান আক্তার। ৬ষ্ট শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী জানায়, প্রতি বছর ঈদে তারা দলবদ্ধভাবে একে অপরের বাড়িতে যায়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা ঘোরাফেরা করে। এ সময় ঈদের পিঠা, সেমাইসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। এটা তারা খুব উপভোগ করে। এছাড়া ঈদের দিন সালাম করলে সবাইকে সালামিও দেয়া হয় বলে জানায়।

শুধু বাউরঘড়িয়া মুটুকপুর নয়, মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর ইউপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে গিয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। সেই গ্রামগুলো বাসিন্দারা আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করছে। গয়গড় গ্রামের বাসিন্দা এজাজুল ইসলাম জানান, প্রতি ঈদে তারা বেড়াতে যান। এসময় তারা মাইক্রোবাস বা বাস রিজার্ভ করেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও তারা সিলেটের জাফলং যাচ্ছেন বলে জানান। রাজনগরের তেলিজুরী গ্রামের বাসিন্দা মাছুম জানান, তিনি শহরে বসবাস করেন। প্রতি ঈদে গ্রামে আসেন। গ্রামের সবাইকে নিয়ে ঈদ করতে পারলে অনুভূতিটা ভিন্ন রকমের হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com