জেলায় গো-খাদ্যের চরম সংকট; নেই বরাদ্ধ

ওমর ফারুক নাঈম॥ মৌলভীবাজার জেলার হাওরের ফসল হারিয়ে কৃষকেরা পড়েছেন গো খাদ্য সংকটে। এবার ফসল গেছে, সেই সঙ্গে গেছে পশুর খাদ্যও। হাওরপারের মানুষ এখন বিপাকে পড়েছেন গবাদিপশু নিয়ে। জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের চরম সংকট। যার কারনে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ‘পানির’ ধরে বিক্রির করছেন গরু-ছাগল। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেও এখন পর্যন্ত মেলেনি কোন বরাদ্ধ।
ফসল হারিয়ে যেমন নিজেদের খাদ্য নেই। তেমনি খাদ্য সংকটও রয়েছে গরু, ছাগল আর হাঁস-মোরগ। এ বছর তৃতীয় দফার বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার ৫টি উপজেলার হাওরসহ নি¤œঞ্চল। পশু পাখির খাদ্যেও সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অভাবের তাড়নায় নিজেদের সংসার চালাতে অনেকটা লোকসান দিয়েই বিক্রি করছেন গবাদী পশু। শেষ সম্বল এই গৃহ পালিত পশু গুলো বিক্রি করে ক্ষেতের জমি চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আহাজারি করছেন চাষীরা।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর পাড়ের গৌড়করন গ্রামের কৃষক বেলাল মিয়ার ১০ একর জমি ছিল। জমির সব ধান তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। ধান তুলতে না পারায় কোনো খড় পাননি। তাঁর পাঁচটি গরু আছে। এখন চারদিকে পানি থাকায় এই গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। উত্তর সাদিপুর গ্রামের কৃষক সালাম মিয়া জানান, চারদিকে পানি থাকায় তার ৬টি গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। থাকার জায়গা আর খাদ্য সংকটের কারনে তা বিক্রি করতে চাচ্ছেন। মীরশংকর গ্রামের কৃষক তাজউদ্দিন বলেন, টাকাপয়সা নাই। নিজে খাইতে পারছিনা আর গো খাদ্য কিনব কি ভাবে। ওদের আর না খাইয়ে রাখতে চাইনা। পোষা প্রাণি গুলোর এমন কষ্ঠ সহ্য হয় না তাই বিক্রি করে দিলাম। অন্য মালিকের ঘরে গিয়ে যাতে তারা শান্তিতে থাকে।
জেলার কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ.স.ম কামরুল ইসলাম জানান, কৃষক ও খামারীরা গো-খাদ্যের সংকট পড়েছেন। চারদিক থেকে হাওরের ফসলহারা মানুষেরা সমস্যায় পড়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে গো-খাদ্য বিতরন হয়েছে। তবে প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের মেডিকেল টিম কাজ করছে।
জুড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি জানান, ফসল যাওয়ার পর এখন মানুষ বেকায়দায় পড়েছে গোয়ালের গরু নিয়ে। একে তো ঘরে মানুষের খাবার নেই তার ওপর দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট এই দুই কারণে গরু বিক্রি হচ্ছে। গো-খাদ্যের প্রকট সংকট রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় নিদিষ্টভাবে কোন পশু ক্ষতির তথ্য নেই। তবে বড়লেখা উপজেলার ১টি ব্রয়লার খামারে ২ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় দানাদার খাদ্য ৪ হাজার ৩ শত ৮৯টন, খড় ৩ হাজার ১ শত ২১ টন এবং ২১ পদের ঔষধপত্রের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ আসেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: মো: হেদায়েত উল্লাহ বলেছেন, ধানের খড় খাইয়ে বর্ষায় হাওর এলাকা কৃষকেরা তাঁদের গরু পালন করেন। কিন্তু এবার ফসলহানির কারণে কৃষকের ঘরে কোনো খড় নেই। এ কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বরাদ্দ পেলে এ বিষয়ে কৃষকদের কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারব।



মন্তব্য করুন